সোমবার ১৬, ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সোমবার ১৬, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ -- : -- --

বিসিএস নিয়োগে অনিয়ম অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১২ পিএম

ফাইল ফটো

সরকারি চাকরি বাংলাদেশের তরুণ সমাজের কাছে কেবল আয়ের উৎস নয়, বরং সামাজিক মর্যাদা ও স্থিতিশীল জীবনের প্রতীক। সেই আকাঙ্ক্ষার শীর্ষে থাকা বিসিএস পরীক্ষাকে ঘিরে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতি ও বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন একাধিক প্রার্থী। তাঁদের দাবি, প্রশাসনিক ভুল ও নীতিগত অস্পষ্টতার কারণে অনেক যোগ্য প্রার্থী বঞ্চিত হয়েছেন।

২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, কিছু প্রার্থীকে একই ক্যাডারে পুনরায় সুপারিশ করা হয়েছে, যা ‘রিপিট ক্যাডার’ হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি উচ্চতর গ্রেডে কর্মরত ব্যক্তিকে নিম্নতর নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ এবং নারী সংরক্ষিত পদে পুরুষ প্রার্থীর মনোনয়নের অভিযোগও সামনে আসে। প্রার্থীদের প্রশ্ন, আগের বিসিএসে এ ধরনের জটিলতা নিরসনে বিধিমালা সংশোধন করে সম্পূরক ফল প্রকাশ করা হলেও এবার কেন একই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

নন-ক্যাডার নিয়োগেও দ্বৈত নীতির অভিযোগ উঠেছে। ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে ২০১০ সালের (সংশোধিত ২০১৪) বিধিমালা অনুসরণের কথা থাকলেও ফল প্রকাশে ২০২৩ সালের নতুন বিধিমালা প্রয়োগ করা হয়েছে বলে দাবি প্রার্থীদের। এর ফলে তাঁরা পছন্দক্রম দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অথচ আগের বিসিএসে একই সুযোগ বহাল ছিল। এতে সংবিধানের সমতার নীতির পরিপন্থী আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

সবচেয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে পদসংখ্যা কমানো নিয়ে। মূল বিজ্ঞপ্তিতে ১,০২২টি নন-ক্যাডার পদের উল্লেখ থাকলেও সুপারিশ করা হয়েছে ৫৪৫ জনকে। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ৪৫৭টি পদ প্রত্যাহার করা হয়। পরে একই ধরনের পদে নতুন করে আলাদা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। প্রার্থীদের প্রশ্ন, দীর্ঘ ১,৩০০ নম্বরের প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর কেন তাঁদের এমন অনিশ্চয়তায় পড়তে হবে?

ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা সম্পূরক ফল প্রকাশ, প্রত্যাহারকৃত পদ পুনর্বহাল এবং পুনরায় পছন্দক্রম দেওয়ার সুযোগ দাবি করেছেন। বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের পরও সিদ্ধান্তে পরিবর্তন না আসায় হতাশা বাড়ছে। তাঁদের মতে, স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে বিসিএসের প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ন হবে এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

Link copied!