প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
সাভারের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড রিসার্চ (নিটার) -এর ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ১৪তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় পায়ের একটি আঙুল হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। এ ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর নাম আবদুল্লাহ আবু সাইফ। গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ (রবিবার) অন্তঃবিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট “কারেন্ট প্রিমিয়ার লীগ (সিপিএল)” উপলক্ষে অনুশীলনের সময় হঠাৎ তার পায়ের একটি আঙুলে গুরুতর আঘাত লাগে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ক্যাম্পাস সংলগ্ন ইসলামপুর এলাকার একটি স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে এক্স-রে পরীক্ষায় আঙুলটি ডিসপ্লেসমেন্ট (স্থানচ্যুতি) হয়েছে বলে জানা যায়।
পরবর্তীতে ওই সেবা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক ডা. এম এন সাজ্জাদ মীরধার পরামর্শে আহত আঙুলের দুই পাশে কাঠিসদৃশ বস্তু স্থাপন করে রাবার দিয়ে চেপে বেঁধে প্লাস্টার করা হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যথাযথ চিকিৎসা প্রটোকল অনুসরণ না করে এভাবে প্লাস্টার করায় আঙুলে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। প্রথমদিকে বড় কোনো জটিলতা বোঝা না গেলেও গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (মঙ্গলবার) প্লাস্টার খোলার পর আঙুলে পচন ধরার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। এমতাবস্থায় অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাঠি দিয়ে শক্তভাবে বেঁধে দেওয়ার কারণে আক্রান্ত স্থানে টিস্যু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বর্তমানে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সংক্রমণ শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ক্ষতিগ্রস্ত আঙুল অপসারণ করা ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় নেই। এতে শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনার পর নিটারের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, প্রাথমিক চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই একটি সাধারণ আঘাত জটিল রূপ নিয়েছে। দোষী চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে স্বাস্থ্যসেবায় অধিকতর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
