রাশেদুজ্জামান রাশেদ,জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম
সোমবার ১৬, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ -- : -- --
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন এর আহ্বানে সংবাদ সম্মেলন
বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সার্বিক পরিস্থিতি, সরকার গঠন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভবিষ্যৎ পরিচালন দর্শন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন এর আহ্বানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ সাজিদ ভবনের নিচতলায় শিক্ষক সমিতির লাউঞ্জে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপকার ও প্রতিষ্ঠাতার দর্শনের প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন, এই দর্শনের ভিত্তিতেই সরকার গঠিত হবে এবং একই দর্শনের আলোকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আরও গতিশীল ও অগ্রসরভাবে পরিচালিত হবে। তিনি দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু ও কোটি মানুষের প্রতিচ্ছবি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া-কে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে দীর্ঘ সতেরো বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সকল জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ, সংঘাতহীন এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত একটি নির্বাচন। এ ধরনের স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশের ইতিহাসে বিরল। নির্বাচনে জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে বিজয়ী হওয়ায় তিনি দলটিকে অভিনন্দন জানান এবং বলেন, এ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে।
অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে এসে নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিএনপি চেয়ারম্যানের আহ্বানে আগামীর রাষ্ট্র পরিচালনায় যেন কোনোভাবেই কেউ নিগৃহীত না হয়, সে বিষয়ে সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি তারেক রহমানের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা হবে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শে; একই ন্যায়পরায়ণতা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জবিতে সকল দল ও মতের মধ্যে যে ঐক্য বিদ্যমান ছিল, বিএনপি সরকার গঠনের পরও সেই ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। জবির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন মাত্রা সংযোজন এবং একাডেমিক পরিবেশের উন্নয়নে শিক্ষক সমিতি, সাদা দল ও ইউট্যাব ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে শিক্ষকদের সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ধরনের বিদ্বেষমূলক বা প্রতিহিংসাপরায়ণ বক্তব্য যেন সামাজিক অবনতি সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। ধর্ম, মত ও পথ নির্বিশেষে সকলের জন্য একটি নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন ইনসাফ ও মানবিকতার ভিত্তিতে একটি আদর্শিক ও মডেল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যমান ও কার্যকর উন্নয়নের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্য শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হয়।
এ সময় জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক, ইউট্যাব জবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ নাসির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদসহ শিক্ষক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।