মঙ্গলবার ২০, অক্টোবর ২০২৬

মঙ্গলবার ২০, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --

চাটখিলে ১ হাজার টাকার বিল হলো ১ লাখ ১০ হাজার, বিপাকে গ্রাহক

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম

চাটখিলে ফ্যান-বাতি চালিয়েও বিদ্যুৎ বিল ১ লাখ ১০ হাজার টাকা!

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় একটি সাধারণ আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগে সেপ্টেম্বর মাসের বিল এসেছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা। ঘরে কয়েকটি বাতি, দুটি ফ্যান, একটি ফ্রিজ ও আইপিএস ব্যবহার করেও এত বেশি বিল আসায় বিস্মিত হয়েছেন গ্রাহক শহীদুল ইসলাম ওরফে রনি। বিষয়টিকে ভুল স্বীকার করে বিল সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের হরিকৃষ্ণপুর গ্রামের বড় তফদার বাড়িতে। মিটারটি বাড়ির মৃত আবু তাহেরের নামে নিবন্ধিত হলেও বর্তমানে সেটি ব্যবহার করেন তাঁর নাতি শহীদুল ইসলাম।

শহীদুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসে তাঁদের বিদ্যুৎ বিল ছিল ১ হাজার ৩২৬ টাকা। আগের কয়েক মাসেও বিলের পরিমাণ প্রায় একই রকম ছিল। কিন্তু সেপ্টেম্বরে হঠাৎ বিল বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকায়। এই অঙ্কের মধ্যে ভ্যাট ও বিলম্ব মাশুলও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

শহীদুল ইসলাম বলেন, তাঁদের বাসায় ফ্যান, বাতি, ফ্রিজ ও আইপিএস ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয় না। গত পাঁচ মাসে তাঁদের গড় বিদ্যুৎ ব্যবহার ছিল ১৮৭ ইউনিট। অথচ সেপ্টেম্বর মাসের বিলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ইউনিট।

তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসছি। চলতি মাসে বিদ্যুৎ বিলের কপি হাতে পেয়ে আমরা স্তম্ভিত হয়ে যাই। বাতি–ফ্যান চালিয়ে কীভাবে এক লাখ টাকার বেশি বিল আসতে পারে। পল্লী বিদ্যুতের বিল প্রস্তুতে নিয়োজিত কর্মীদের গাফিলতি ও দায়িত্বহীন আচরণের কারণে এমন ভুতুড়ে বিল তৈরি হয়েছে।’

ভুল সংশোধনে গ্রাহককে কার্যালয়ে যাওয়ার পরামর্শ

শহীদুল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিল বিতরণকারী কর্মীর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তখন ওই কর্মী তাঁকে বিলের ভুল সংশোধনের জন্য পল্লী বিদ্যুতের কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে বলেন।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘তারা ভুল করবে, আর আমরা তা সংশোধনের জন্য তাদের দরজায় দরজায় ঘুরব, এটি কোন ধরনের কথা। আমি চাই, এর জন্য দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

ভুল স্বীকার পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের

অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাটখিল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জুনায়েদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। প্রথমে তিনি বিলের কপি না দেখে মন্তব্য করতে চাননি।

পরে বিলের কপি পাঠানো হলে তিনি বলেন, ‘এটি ভুলবশত হয়েছে। শিগগিরই ওই গ্রাহকের বাড়িতে বিদ্যুতের লোকজন গিয়ে মিটার পরীক্ষা করে আসবেন। গ্রাহকের বিল সংশোধন করে দেওয়া হবে।’

কর্তৃপক্ষের আশ্বাস অনুযায়ী, মিটার পরীক্ষা করে বিল সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে কী কারণে বিলে এত বড় অঙ্কের বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখানো হয়েছে, তা মিটার পরীক্ষা শেষে স্পষ্ট হবে।

Link copied!