বৃহস্পতিবার ১৫, অক্টোবর ২০২৬

বৃহস্পতিবার ১৫, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে এনপিএল ঘিরে চার দফা সংঘর্ষ, আহত ৬

জাককানইবি থেকে রবিউল ইসলাম শাকিল

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭ পিএম

সংগৃহীত

‎‎জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুল প্রিমিয়ার লীগ (এনপিএল) ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে চার দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মাঠের সীমানার ভেতরে ফুটবল চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ সন্ধ্যায় গড়ায় মারধরে। এতে অন্তত ছয় শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুই সাংবাদিককে হেনস্তা ও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

‎বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে অগ্নিবীণা হলের সামনে, কলা ভবনের সামনে ও পেছনে দফায় দফায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

‎প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এনপিএল চলাকালে মাঠের বাউন্ডারির ভেতরে ফুটবল চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে টুর্নামেন্টের আয়োজক ও পাশের অংশে ফুটবল খেলতে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও গালিগালাজ হয়। খেলা শেষে বিরোধ মীমাংসার জন্য দুই পক্ষ একত্র হলে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শুভকে ২০তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী চড় মেরেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

‎‎এ ঘটনার জেরে অগ্নিবীণা হল ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে এনপিএল আয়োজক কমিটির সদস্য সিফাত, নাসিমসহ আরেক খেলোয়াড়কে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ইংরেজি এবং লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনাবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। পরে তাঁদের একটি দল কলা ভবনের সামনে অবস্থান নেয়।

‎এরপর ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী ও এনপিএল আয়োজক কমিটির সদস্য সিফাতের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী কলা ভবনের সামনে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাধে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। পরে সেখানে অবস্থান নেওয়া ইংরেজি ও লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীদের একটি দল সরে যায়।

‎‎অভিযোগ রয়েছে, এরপর তাঁদের খুঁজতে গিয়ে কলা ভবনের পেছনে তিন শিক্ষার্থীকে পেয়ে রড ও ক্রিকেটের স্টাম্প দিয়ে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রক্টর সেখানে গেলে তাঁর সঙ্গেও অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

‎‎সংঘর্ষের মধ্যে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত আরটিভির প্রতিনিধি আবু তাহেরের অভিযোগ, সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁর ওপর চড়াও হন। এ সময় তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে জোর করে ভিডিও মুছে দেওয়া হয়। তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া ভিডিও ধারণের সময় কালবেলার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আসাদুল্লাহ আল গালিবকেও বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

‎‎আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইংরেজি, লোকপ্রশাসন ও চারুকলা বিভাগের রবিউল, সাকিব, রাফি ও রোমানকে প্রথমে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্য পক্ষের দিদারুল ইসলাম আহত হয়ে ত্রিশাল মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি হন। এ ছাড়া সিফাত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানা গেছে।

‎‎ঘটনার পর হাসপাতালে আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, প্রক্টরসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

‎‎এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “ক্যাম্পাসে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যা কখনোই কাম্য নয়। মোট ৬ জন আহত বলে জেনেছি।”

Link copied!