শুক্রবার ০৯, অক্টোবর ২০২৬

শুক্রবার ০৯, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --

নেকাব পরা ছাত্রীকে ‘মৌলবাদী-সন্ত্রাসী’ বলার অভিযোগ, ইউটিএলের নিন্দা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭ পিএম

সংগৃহীত

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে নেকাব পরিহিত এক নারী শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স’ লিংক (ইউটিএল)।

 

বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। অভিযোগের পর শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে যান এবং অনেকে ক্লাস বর্জন করে প্রতিবাদ জানান।

 

ইউটিএলের ৮ অক্টোবরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শ্রেণিকক্ষে এক নারী শিক্ষার্থীকে তাঁর পোশাকের কারণে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এমনকি ওই শিক্ষার্থী বোমা হামলা করতে পারেন; এমন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যও করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

সংগঠনটি বলেছে, কোনো শিক্ষার্থীর পোশাক, ধর্মীয় অনুশীলন বা ব্যক্তিগত পছন্দকে কেন্দ্র করে তাঁকে হেয় করা, ভয় দেখানো কিংবা নেতিবাচকভাবে চিহ্নিত করা শিক্ষকের পেশাগত দায়িত্ব ও নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

তবে অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর পরিচয় ইউটিএলের বিবৃতিতে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ওই শিক্ষক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের নাম এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

 

বিবৃতিতে ইউটিএল বলেছে, পোশাক দেখে কোনো শিক্ষার্থীর মেধা, চরিত্র, মনোভাব বা যোগ্যতা সম্পর্কে পূর্বধারণা তৈরি করা একাডেমিক ন্যায়বোধের পরিপন্থী।

 

সংগঠনটির ভাষ্য, একজন শিক্ষক ভিন্নমতের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানচর্চা, সহনশীলতা, যুক্তিবোধ ও পারস্পরিক সম্মানের সংস্কৃতি গড়ে তুলবেন। শ্রেণিকক্ষ হওয়া উচিত নিরাপদ, মুক্ত ও মানবিক আলোচনার জায়গা—অপমান, ভয়ভীতি বা মতাদর্শিক আধিপত্যের স্থান নয়।

 

ইউটিএল ঘটনাটির নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রশাসনিক ও একাডেমিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

 

এদিকে, অভিযোগের পর ওই শিক্ষকের নেওয়া মাস্টার্সের ক্লাস পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়েছে ইংরেজি বিভাগ। শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে প্রক্টর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

 

ইউটিএল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে শিক্ষার্থীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ধর্মীয় পোশাক, ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা মতাদর্শের কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন বৈষম্য বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

 

তবে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের ভিত্তিতে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

Link copied!