শুক্রবার ০৯, অক্টোবর ২০২৬

শুক্রবার ০৯, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --

কক্সবাজারের দুই ট্রেনের টিকিট এক মিনিটে শেষ, প্রশ্ন তুললেন আশফাক নিপুণ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৮ এএম

সংগৃহীত

 

কক্সবাজারগামী দুটি ট্রেনের টিকিট অনলাইনে বিক্রি শুরুর মাত্র এক মিনিটের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন নির্মাতা ও কথাসাহিত্যিক আশফাক নিপুণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অনলাইন টিকিট ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও সম্ভাব্য টিকিট সিন্ডিকেট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

 

আশফাক নিপুণ ফেসবুকে লিখেন, তাঁর সেজো মামা, মামী ও মামাতো বোন পূজার ছুটিতে কক্সবাজার যেতে চেয়েছিলেন। মামার বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ সময় বাসের সিটে বসে ভ্রমণ করা সম্ভব নয়। তাই ট্রেনে যাওয়ার পরিকল্পনা করে তাঁরা যাত্রার ১০ দিন আগে অনলাইনে তিনটি টিকিট কাটার সিদ্ধান্ত নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সকাল ৮টায় টিকিট ছাড়ার ১৫ মিনিট আগে থেকেই মোবাইল হাতে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। টিকিট কাটার সময় যাতে কোনো নোটিফিকেশনে ভুল করে চাপ না পড়ে, সে জন্য মোবাইলের অন্যান্য নোটিফিকেশনও বন্ধ করে রাখেন। সকাল ৭টা ৫৯ মিনিটে তিনি পুনরায় লগইন করেন। এরপর ঠিক ৮টায় ট্রেন সার্চে চাপ দেন। তাঁর ভাষ্য, সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনের সিট প্ল্যান দেখা যায় এবং সেখানে সারি সারি আসনও দেখাচ্ছিল। কিন্তু কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করে ৮টা ১ মিনিটে তিনি দেখতে পান, কক্সবাজার রুটের দুটি ট্রেনের সব টিকিট শেষ হয়ে গেছে।

 

নিপুণের দাবি, অনলাইনে একটি টিকিট কেনার পুরো প্রক্রিয়ায় সিট নির্বাচন, ওটিপি যাচাই, পেমেন্ট, পেমেন্ট নিশ্চিতকরণ এবং চূড়ান্ত বুকিং—এমন কয়েকটি ধাপ রয়েছে। নিয়মিত অনলাইনে টিকিট কাটার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি হিসাব করে দেখেছেন, একটি টিকিটের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে সাধারণত ছয় থেকে সাত মিনিট সময় লাগে।

 

তাঁর প্রশ্ন, সবাই যদি ঠিক সকাল ৮টায় টিকিটের প্রক্রিয়া শুরু করেন এবং প্রত্যেকের ইন্টারনেট সংযোগ দ্রুতগতিরও হয়, তাহলেও দুই ট্রেনের সব টিকিট ৮টা ১ মিনিটের মধ্যে কীভাবে শেষ হয়ে যায়?

 

তিনি লেখেন, “এক মিনিটে দুই ট্রেন গায়েব”—এমন ঘটনা টিকিট ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

 

পোস্টে আশফাক নিপুণ বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিট বিক্রিতে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, সরকার বদলালেও দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন টিকিটের সংকট ও কালোবাজারির অভিযোগের সমাধান হয়নি।

 

তিনি বলেন, শুধু সফটওয়্যার পরিবর্তন বা টিকিট বিক্রির সময়সূচি বদলালেই সমস্যার সমাধান হবে না। টিকিট বিক্রির পুরো ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং সম্ভাব্য সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

 

এদিকে ট্রেনের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে টিকিট ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা গায়েব হয়ে যাওয়া এবং সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টি ইতোমধ্যে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। এ নিয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর সিলেটের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (আমলি-১১) স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ১ অক্টোবর আদালত মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। বর্তমানে পিবিআইয়ের এক উপপরিদর্শক মামলাটি তদন্ত করছেন।

Link copied!