সোমবার ২১, সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোমবার ২১, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --

সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে দেড় যুগ আগে মৃত পিতাকে জীবিত দেখালেন মুক্তিযোদ্ধা!

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৯ এএম

ছবিতে অভিযুক্ত

 

পৈতৃক ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত ভাই-বোনের সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে দেড় যুগ আগে মৃত পিতাকে জীবিত দেখিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা মো. আমির হোসেন মৃধা। তিনি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের গাব্দেরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।

 

ঘটনার অনুসন্ধানে জানা গেছে, গাব্দেরগাঁও মোৗজার ১৪৩৬ বাড়ীর দাগে ১৬ শতক জায়গা মোখলেছুর রহমান মৃধার নামে ৮০৯ বিএস খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত হয়। ২০০৪ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ওয়ারিশ সূত্রে তার ৩ পুত্র এবং ২ কন্যা উক্ত সম্পত্তির মালকানা লাভ করেন। কিন্তু ০৬/০২/২০২২ ইং তারিখে আবেদনকৃত নামজারী আবেদনে উক্ত দাগের সমুদয় সম্পত্তি নিজ নামে নামজারীর আবেদন করেন তার বড় ছেলে মোঃ আমির হোসেন। নামজারী মোকদ্দমা নং ৫০৪৭/২০২১-২২। নামজারী আবেদনের সময় পিতার মৃত্যু এবং ওয়ারিশদের তথ্য গোপন করেন তিনি।

 

নামজারী আবেদনের বিরুদ্ধে আপত্তি থাকলে অফিসে উপস্থিত হয়ে লিখিত বক্তব্য বা আপত্তি উপস্থাপনের জন্য ২৫/০৫/২০২২ ইং তারিখে ভূমি অফিসের মাধ্যমে মৃত পিতাকে নোটিশ পাঠান তিনি। নির্ধারিত দিনে মৃত পিতা গরহাজির থাকলে একতরফা তার নামে ১৮৯৭ নং নামজারী খতিয়ানটি সৃজন করে দেয় উপজেলা ভূমি অফিস। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে আমির হোসেন মৃধার ভাই শফিকুর রহমান মৃধা বাদী হয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর নামজারীটি বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুর রহমান মৃধা বলেন, জেলা ও দায়রা জজ আদালত চাঁদপুরের সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবিধ আপীল মামলা ১০/০৩ এর বাদী ছিলেন আমার বাবা মোখলেছুর রহমান মৃধা। ১৩/০৯/২০০৪ তারিখে আমার বাবার মৃত্যু হয়। ০৫/০১/২০০৫ তারিখে বাবার মামলার বাদী হওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেন আমার ভাই আমীর হোসেন মৃধা। সেখানে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। এছাড়াও সিনিয়র সহকারী জজ আদালাত ফরিদগঞ্জ চাঁদপুরে তিনি বাদী হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি মামলা করেন। মামলা নং ৬৪/০৬। সেখানেও তিনি ১৩/০৯/২০০৪ তারিখে বাবার মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করেন। মামলাটি আদালত খারিজ করে দেয়। এমনকি আপীলও তিনি পরাজিত হন। আদালতকে মিসগাইড করতে ব্যর্থ হয়ে শুধুমাত্র ভাই-বোনদের সম্পত্তি আত্মসাতের হীন উদ্দেশ্যেই তিনির প্রতারণার মাধ্যমে ২০২২ সালে বাবাকে জীবিত দেখিয়ে নোটিশ করেছেন এবং বাড়ির দাগে ১৬ শতক সম্পত্তি নিজের নামে নামজারী করে নিয়েছেন। আমরা তার এই নামজারীটি বাতিল করতে ইতিমধ্যে ভূমি অফিসে আবেদন দিয়েছি। আমরা ন্যায়বিচার চাই।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেনের পক্ষে তার ছেলে মোশারফ হোসেন ফারুক মৃধা বলেন, প্রশাসন নোটিশ করেছে। এটা আমার বাবার বিষয় না। প্রশাসন ভুল করলে সে দায়ভার কি আমার বাবার নাকি? প্রশাসন যদি ভুল করে ভুল নোটিশ প্রয়োগ করে সে দায়ভারতো আমাদের না, প্রশাসনের। দাদা ১৯৮৭ সালে বাবাকে বসবাসের জন্য মৌখিকভাবে এ জায়গা দিয়ে গেছে। সেই থেকে আমার বাবা এ সম্পত্তি ভোগদখলে রয়েছেন। এ সংক্রান্ত আরো প্রশ্ন করলে তিনি সেসব এড়িয়ে গেছেন।

 

Link copied!