সোমবার ২৪, আগস্ট ২০২৬

সোমবার ২৪, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

রাকসু ফান্ডের সোয়া কোটি টাকার হিসাব চায় ছাত্রদল

রাবি থেকে মো.রেজওয়ান

প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৯ এএম

ফাইল ফটো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ফান্ড থেকে প্রায় সোয়া কোটি টাকা উত্তোলন ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। একই সঙ্গে অনিয়মের মাধ্যমে ব্যয় বা আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার করে রাকসু ফান্ডে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।শনিবার (২২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলামের কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ৪২টি কর্মসূচিতে রাকসুর তহবিল থেকে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকা উত্তোলনের পরও বিল-ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রদল। সংগঠনটির দাবি, উত্তোলিত অর্থের একটি বড় অংশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়নি।

রাকসু ফান্ডের অর্থ শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে বলা হয়, এই অর্থের প্রতিটি টাকার স্বচ্ছ হিসাব ও ব্যয়ের প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। খাত না দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন, যথাযথ বিল-ভাউচার না দেওয়া এবং আর্থিক বিধি অনুসরণ না করার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।

ছাত্রদল বলেছে, তারা কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে পূর্বানুমানভিত্তিক দোষী সাব্যস্ত করতে চায় না। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।

স্মারকলিপিতে রাকসু ফান্ডের আয়-ব্যয়, ব্যাংক হিসাব, চেক ও অর্থ উত্তোলনসংক্রান্ত নথি, বিল-ভাউচারসহ সংশ্লিষ্ট সব আর্থিক কাগজপত্রের স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত বা অডিটের দাবি জানানো হয়েছে। এ জন্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত বা অডিট কমিটি গঠন এবং তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশেরও দাবি করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, তদন্তে অর্থ আত্মসাৎ, অপব্যবহার, দুর্নীতি, অনিয়ম বা আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। বৈধ ব্যয়ের প্রমাণ না পাওয়া গেলে বা অনিয়মের মাধ্যমে ব্যয় করা অর্থের ক্ষেত্রে তা উদ্ধার করে রাকসু ফান্ডে ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

ভবিষ্যতে রাকসু ফান্ড ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত অডিট, আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ এবং প্রতিটি ব্যয়ের বিপরীতে বাধ্যতামূলক বিল-ভাউচার সংরক্ষণের ব্যবস্থা করারও দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘শিক্ষার্থীদের অর্থ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।’ রাকসু ফান্ডের অর্থ কোথা থেকে এসেছে, কোথায় ব্যয় হয়েছে, কারা উত্তোলন করেছেন, কোন খাতে ব্যয় হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কত টাকা ব্যয় হয়েছে—এসব বিষয়ে স্বচ্ছ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

Link copied!