মঙ্গলবার ১১, আগস্ট ২০২৬

মঙ্গলবার ১১, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

ইবি ক্যাম্পাস এলাকায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাট : বিপাকে শিক্ষার্থীরা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাওহিদ ইসলাম

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০১:২০ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) সংলগ্ন এলাকায় তীব্র লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট আবাসন সুবিধা না থাকায় সিংহভাগ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন মেসে এবং ভাড়া বাসায় থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। সম্প্রতি এসব এলাকায়  নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় চলমান সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ও ক্লাসের পড়াশোনার প্রস্তুতি ভালোভাবে নিতে পারছে না তারা।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে রাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। দিনেও একই পরিস্থিতির শিকার শিক্ষার্থীরা। ফলে বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের চার্জার লাইট ও মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে। এতে যেমন পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে, তেমনি তীব্র গরমে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, ইবি শিক্ষার্থীরা অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা আনন্দনগর, শেখপাড়া, শাহ আজিজ হল পকেট গেইট, লালন শাহ হল পকেট গেইট ও মেইন গেইটসহ আশেপাশের এলাকাগুলোতে মেস কিংবা ভাড়া বাসায় থাকে। ইদানীং এসব এলাকা তীব্র লোডশেডিংয়ে জর্জরিত হয়ে পড়েছে। 

শিক্ষার্থীরা জানায়, 'গতকাল সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ চলে যায় পরে রাত ১১টায় আসে। তাদের ভাষ্য 'বিদ্যুৎ এখন আর যায় না মাঝে মধ্যে আসে। ক্যাম্পাসেও নিয়মিত ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে ল্যাপটপে কোডিং ও প্রজেক্টের কাজ অর্ধেক পথেই আটকে যায়। তীব্র গরমে ফ্যান ছাড়া পড়ার টেবিলে ১০ মিনিটও বসা সম্ভব হয় না, যা মানসিকভাবে চরম বিরক্তিকর। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হলগুলোতে ওয়াই-ফাই ও নেটওয়ার্ক সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অনলাইন রিসোর্স খোঁজা বা ডিজিটাল প্রেজেন্টেশনের স্লাইড তৈরির মতো জরুরি কাজগুলো সময়মতো জমা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ক্যাম্পাসে জেনারেটর সুবিধা চালু রাখায় তুলনামূলক কম লোডশেডিং হচ্ছে।

এ বিষয়ে ক্যাম্পাস সংলগ্ন মেসে থাকা ইনভায়রনমেন্ট সাইন্স এন্ড জিওগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসাইন বিজয় বলেন, "বিদ্যুৎ নিয়ে কি আর বলবো ৩ ঘণ্টা পর পর বিদ্যুৎ আসে ৩০ মিনিটে আবার চলে যায়। ফোন, ল্যাপটপ কিছুতেই চার্জ দিতে পারিনি। গতকাল আমার অনলাইন ক্লাস ছিলো বিদ্যুৎ না থাকার কারণে সেটাও করতে পারিনি। রাতে ঠিকমতো  ঘুমানো যায় না। এই অসহ্য গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে মানুষ কিভাবে বাঁচবে। বিদ্যুৎ এখন  মানুষের মৌলিক চাহিদা। তাই কতৃপক্ষের কাছে অনুরোধ থাকবে দ্রুত যেনো এই সমস্যার সমাধান করা হয়।"

শান্তিডাঙ্গায় বসবাসরত  আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন শান্তিডাঙ্গা গ্রামে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র সাড়ে ১০ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ মিলছে না। গত ৯ আগস্ট বিকেল ৫টা থেকে ১০ আগস্ট বিকেল ৫টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল মাত্র ১০ ঘণ্টা ২৬ মিনিট। অর্থাৎ ওই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৩ ঘণ্টা ৩৪ মিনিটই সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল এলাকাটি।

ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী মাশরুপা ইয়াসমিন বলেন, "বিদ্যুৎ না থাকায় সময়মতো পড়াশোনায় ও ঘুমাতে পারছি না। ফলে একাডেমিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।"

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী তামিম বলেন, "দিনে প্রায় ১৬ ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় থাকায় গতকাল ফোনের টর্চলাইটের আলোর মাধ্যমে অ্যাসাইনমেন্ট করেছি। লোডশোডিংয়ের ফলে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ায় অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।"

লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুজ্জামান শান্ত বলেন, "আমার অধিকাংশ পড়াশোনা ফোন ও ল্যাপটপ নির্ভর। বিদ্যুৎ না থাকায় চার্জ করতে পারছি না এবং রাতে ঘুম না হওয়ার ফলে ক্লাসে মনযোগ হারাচ্ছি।"

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায় নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম শরিফ উদ্দিন বলেন, "ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো আমাদের আওতাধীন নয়, তাই এই বিষয়ে বলতে পারছি না। সমগ্র দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট এখন এক জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। তবে বিশেষ বিবেচনা বা কেপিআই (KPI) হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় লোডশেডিং কম হতো। কিন্তু বরাদ্দ চরম পরিমাণে কমে যাওয়ায় এখানেও বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। জেনারেটর ব্যবস্থা থাকলেও তা দিয়ে 

Link copied!