রবিবার ০৯, আগস্ট ২০২৬

রবিবার ০৯, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

সিলেট মহাসড়ক মৃত্যুফাঁদ ৬ মাসেই ১১৭ লাশ

মৌলভীবাজার থেকে রাজন হোসেন তৌফিক

প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এখন যেন মৃত্যু উপত্যকা। গত ছয় মাসেই সিলেট অঞ্চলের আওতাধীন মহাসড়কে ১৮৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১১৭ জনের। আহত হয়েছেন আরও ২৭৫ জন। এর মধ্যে ১০৯ জনের অবস্থা গুরুতর।

সিলেট অঞ্চলের হাইওয়ে পুলিশের দেওয়া তথ্য বলছে, চালকদের বেপরোয়া গতি, তন্দ্রাচ্ছন্নতা আর মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা ভাসমান দোকান-বাজারই এসব মৃত্যুর মূল কারণ।

মাসওয়ারি পরিসংখ্যান, জুনেই সর্বোচ্চ মৃত্যু
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৬ মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়,ফেব্রুয়ারি    ২২টি দূঘর্টনা ১৪ জন মৃত্যু, 
মার্চ    ৪১টি ২৪ জন,এপ্রিল ২৩টি১৪ জন, মে ৪০টি২২ জন, জুন ৩২টি২৯ জন, জুলাই ৩২টি১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে মোট ১৮৫টি দূঘর্টনায় ১১৭ জন মৃত্যু। 

মার্চে দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি ৪১টি। আর জুনে প্রাণহানি সর্বোচ্চ ২৯ জন। একই সময়ে সাধারণভাবে আহত হয়েছেন ১৬৬ জন।

দুর্ঘটনার কারণ কী হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের মতে মূল ৩টি কারণ - বেপরোয়া গতি, মহাসড়কে সর্বোচ্চ গতিসীমা ৮০ কিলোমিটার। কিন্তু দূরপাল্লার বাস ও প্রাইভেট কার চালাচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার বা তারও বেশি গতিতে। জরুরি পরিস্থিতিতে গতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

চালকের ঘুম, দূরপাল্লার বাস-ট্রাকের চালকরা দীর্ঘ সময় বিশ্রাম ছাড়াই গাড়ি চালাচ্ছেন। বিশেষ করে ভোর ও সকালে বড় দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। তন্দ্রাচ্ছন্নতার কারণেই স্টিয়ারিংয়ে বসেই ঢুলে পড়ছেন তারা।

যত্রতত্র পার্কিং ও হাটবাজার- মহাসড়কের পাশে ভাসমান দোকান, যত্রতত্র পার্কিং ও হাটবাজারকেন্দ্রিক যানজট দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। মৌলভীবাজারের শেরপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বর, নবীগঞ্জের আউশকান্দি কিবরিয়া চত্বর, শায়েস্তাগঞ্জ পয়েন্ট এবং সিলেটের ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজার অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ।

শেরপুরবাজার এলাকার বাসিন্দা ও শিক্ষকরা জানান, শেরপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের আশপাশে মহাসড়কের বড় অংশজুড়ে যানবাহন ও ভাসমান দোকান থাকায় শিক্ষার্থীদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। 

আজাদ বখত উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিহাবুর রহমান বলেন, কয়েক বছর আগে এই চত্বরে বাসচাপায় এক পুলিশ সদস্য নিহত ও আরেকজন গুরুতর আহত হন। এর আগে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীও এখানে নিহত হন।

সর্বশেষ ৭ আগস্ট ভোরে ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় ইউনিক ও বেঙ্গল পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ বছরের শিশুসহ ৯ জন নিহত হন।


সিলেট অঞ্চলের হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম ১১৭ জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন,  সড়কের নাজুক অবস্থা, চালকদের দীর্ঘ সময় বিশ্রাম ছাড়া গাড়ি চালানো এবং অতিরিক্ত গতি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। মহাসড়কের বিভিন্ন চত্বর ও হাটবাজারে যানবাহন পার্কিং এবং ভাসমান দোকান নিয়ে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা দূর করতে হাইওয়ে পুলিশ নিয়মিত কাজ করছে।

গত ৬ মাসে এসব দুর্ঘটনায় ৯৫টি মামলা হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে সমঝোতায় যাওয়ায় মামলা হয়নি। ফলে প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ।


সচেতন মহলের দাবি, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইনি ব্যবস্থা, চালকদের বাধ্যতামূলক বিশ্রাম এবং মহাসড়ক থেকে অবৈধ দোকান-পার্কিং উচ্ছেদ না করলে সিলেট মহাসড়কে লাশের মিছিল থামবে না।

 

Link copied!