রবিবার ০৯, আগস্ট ২০২৬

রবিবার ০৯, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

দালালের খপ্পরে পড়ে ভারতের গুয়াহাটি রিফিউজি ক্যাম্পে সুনামগঞ্জের মান্নান

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 

প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

সুনামগঞ্জের মান্নান মিয়া (২৮) নামে এক যুবককে ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে কয়লার কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ২২ হাজার টাকার বিনিময়ে স্থানীয় দুই মানব পাচারকারী তাহিরপুরের বড়ছড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে নিয়ে যায়। পরে তাকে কাশ্মীরে রেখে দালালরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

মান্নান মিয়া সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের কাইয়ারগাঁও গ্রামের দিনমজুর মো. আলী আকবর ও সখিনা খাতুনের ছেলে। আজ শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জে এসে সাংবাদিকদের কাছে তাদের ছেলে মান্নান মিয়ার করুণ পরিস্থিতির কথা জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং ছেলেকে উদ্ধারের জন্য আকুতি জানান।

স্থানীয় ও মান্নানের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের মে মাসে একই ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের মানব পাচারকারী আলামিন মান্নানের বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারতের কাশ্মীরে কয়লা কুড়ানোর ভালো কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ২২ হাজার টাকায় চুক্তি করেন। পরে মান্নানকে একই উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের নৈইগাঁও গ্রামের মৃত শাহাব উদ্দিনের ছেলে মানব পাচারকারী শাহ আলমের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

শাহ আলম সহজ-সরল মান্নান মিয়াকে নিয়ে ২০২৫ সালের মে মাসে সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে এই দালাল মান্নানকে নিয়ে কাশ্মীরে যান। সেখানে গিয়ে মান্নানকে রেখে দালাল শাহ আলম পালিয়ে যান।

মান্নান মিয়া স্থানীয় ভাষা জানতেন না এবং তাঁর কাছে কোনো টাকা-পয়সাও ছিল না। নিরুপায় হয়ে তিনি কৌশলে কাশ্মীর থেকে ভারতের গুয়াহাটি হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসার চেষ্টা করেন। এ সময় সেখানকার পুলিশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সদস্যরা তাঁকে আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানতে পারেন, মানব পাচারকারী দালালরা বাংলাদেশ থেকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তাঁকে কাশ্মীরে নিয়ে গিয়ে পালিয়ে গেছে।

মান্নান মিয়া বর্তমানে ভারতের গুয়াহাটির কচুতলা রিফিউজি ক্যাম্পে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে দালালচক্রটি কাইয়ারগাঁও গ্রামের বিল্লাল নামে আরও এক যুবককে মান্নান মিয়ার সঙ্গে কাশ্মীরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সুনামগঞ্জের বনগাঁও এলাকার মালিক মিয়ার মাধ্যমে বিল্লালকে দালাল ধরে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশে আনা হয়। এদিকে, মান্নানের বাবা দিনমজুর হওয়ায় টাকা-পয়সার অভাবে ছেলেকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে মান্নানের বাবা আলী আকবর ও মা সখিনা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানান, ‘আমাদের কাইয়ারগাঁও গ্রামের আলামিন ও রঙ্গারচর ইউপির নৈইগাঁও গ্রামের শাহ আলম—এই দুই দালাল মিলে আমার সহজ-সরল ছেলে মান্নানকে জীবন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২২ হাজার টাকার বিনিময়ে ভারতের কাশ্মীরে নিয়ে তাকে রেখে পালিয়ে যায়।’ তাঁরা সরকার ও প্রশাসনের কাছে তাঁদের ছেলেকে গুয়াহাটি থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি দুই দালালকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ ব্যাপারে মানব পাচারকারী আলামিন ও শাহ আলমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রতন শেখ পিপিএম জানান, যেসব মানব পাচারকারী দালাল মান্নান মিয়াকে ভারতে পাচার করেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে মান্নানের অভিভাবকদের আদালতে একটি মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

Link copied!