ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাওহিদ ইসলাম
প্রকাশিত: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
রবিবার ০২, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --
ছবি।ক্যাম্পাস রিপোর্ট
উৎসবমুখর পরিবেশে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। শনিবার (১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসি মিলনায়তনে আয়োজিত কেন্দ্রীয় নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রায় দুই হাজারের বেশি নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন। দিনব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ছিল অতিথি বরণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, উন্নতমানের খাবার পরিবেশন এবং শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন।
নবীন শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনুষ্ঠানটি দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম পর্বে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, আইন এবং ইসলামিক ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব অনুষদের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেন ব্যবসায় প্রশাসন, বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের নবীন শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. মাহ্দী আমিন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক প্রফেসর ড. এস. এম. আব্দুল আওয়াল, ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. তোজাম্মেল হোসেন, ইবির উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্পর্ক অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম শাহ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধের দিক থেকে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় এগিয়ে। তিনি নবীনদের উদ্দেশে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু ডিগ্রি অর্জনের জন্য নয়; বরং মানবিক, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার সুযোগ। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের বহুভাষিক দক্ষতা বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিগগিরই জাপানি ও চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান।
প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরাও নবীন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন এবং দেশ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
নবীনদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ, আনন্দঘন পরিবেশ এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় নবীনবরণ অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন যাত্রার শুরুতে এমন আয়োজনে অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন নবাগত শিক্ষার্থীরা।