জাবিপ্রবি থেকে মোঃ জসিম উদ্দিন
প্রকাশিত: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
রবিবার ০২, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --
ছবি।ক্যাম্পাস রিপোর্ট
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮টি পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ছাত্র কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে সংগৃহীত তহবিল থেকে উপজেলার কদম রসুল, ডোংরা ও খানখানাবাদ গ্রামের বন্যাদুর্গত ৩৮টি পরিবারের প্রত্যেককে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাম্প্রতিক বন্যায় বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী এসব এলাকার অসংখ্য বসতঘর, কৃষিজমি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানি সরে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্দশা লাঘবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছায় তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
সহায়তা পাওয়া কদম রসুল গ্রামের বিধবা সানোয়ারা বেগম বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের রহম করুন। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। স্বামী-স্বজন, ঘরবাড়ি কিছুই আর নেই। কোনোমতে বেঁচে আছি। তোমাদের এই সহায়তা আমাকে নতুন করে বাঁচার সাহস দিয়েছে।’
ডোংরা গ্রামের বাসিন্দা শাহিন আক্তার বলেন, ‘আমাদের গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি সবই বন্যায় নষ্ট হয়ে গেছে। সন্তানদের নিয়ে সামনের দিনগুলো কীভাবে কাটবে, সেই দুশ্চিন্তায় ঘুম আসে না।’
চট্টগ্রাম বিভাগীয় ছাত্র কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ও জামালপুরের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সহযোগিতায় আমরা মোট ৬৪ হাজার ২৮৩ টাকা সংগ্রহ করেছি। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি গ্রামের ৩৮টি পরিবারকে এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রথমে টিন কিনে দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়া, সময়ের স্বল্পতা এবং স্বেচ্ছাসেবকের সীমিত উপস্থিতির কারণে নগদ অর্থ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই মানবিক উদ্যোগ সফল করতে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের সবার প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আগামীকাল আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা হবে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মিনহাজ, কোষাধ্যক্ষ সজরুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।