প্রকাশিত: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০১:২৫ এএম
বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত (ডায়াসপোরা) পরিবারের সন্তানদের দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি)। ২০২৭ সালের জানুয়ারি শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
এ উদ্যোগের আওতায় যোগ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা দেশীয় শিক্ষার্থীদের সমপরিমাণ টিউশন ও একাডেমিক ফি - বছরে আনুমানিক ৬০ মার্কিন ডলার পরিশোধ করে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি তাদের জন্য শতভাগ আবাসন সুবিধাও নিশ্চিত করা হবে।
গত ৩ জুলাই ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারের যোগ্য সন্তানদের দ্রুত আবেদন করার আহ্বান জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদেশি নাগরিকত্বধারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করা।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হলেও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দেশীয় শিক্ষার্থীদের সমপরিমাণ টিউশন ও একাডেমিক ফি নেওয়া হবে, যার পরিমাণ বছরে আনুমানিক ৬০ মার্কিন ডলার। এছাড়া ভর্তি হওয়া সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য ক্যাম্পাসে শতভাগ আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
কোপেনহেগেনের বাংলাদেশ দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি ডায়াসপোরাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এর মাধ্যমে তাদের সন্তানরা বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। বিদেশি নাগরিকত্ব এবং সংশ্লিষ্ট দেশের বৈধ পাসপোর্টধারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীরা এ সুযোগের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ডিসিপ্লিনের পাঠ্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে আউটকাম-বেসড এডুকেশন (OBE) মডেলে পরিচালিত হয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টি রোলিং অ্যাডমিশন পদ্ধতি অনুসরণ করে। অর্থাৎ আবেদন জমা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাচাই-বাছাই ও প্রক্রিয়াকরণ শুরু হয়। ফলে নির্ধারিত আসন পূরণের আগেই আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রাজনীতিমুক্ত, শান্তিপূর্ণ এবং গবেষণাবান্ধব পরিবেশ আন্তর্জাতিক ও প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনুকূল শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করবে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আশিক উর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিকীকরণ এবং গ্লোবাল র্যাংকিংয়ে আরও এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদের ক্যাম্পাসে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, গবেষণার অবকাঠামো এবং নিরাপদ আবাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি সেশনের ক্লাস শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম চলবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স-এর ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে আবেদন করতে পারবেন। প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য পরিচালক, অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের ই-মেইলেও যোগাযোগ করা যাবে।
বর্তমানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অন্যতম। ২০২৫ সালের বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ১২০১–১৫০০ ব্যান্ডে, তরুণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাটাগরিতে ৪০১–৫০০ এবং এশিয়ায় ৫০১–৬০০ ব্যান্ডে স্থান পেয়েছে।
১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার প্রধান মাধ্যম ইংরেজি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি স্কুলের অধীনে ২৯টি ডিসিপ্লিনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এবং আরবান অ্যান্ড রুরাল প্ল্যানিং বিষয় বাংলাদেশে প্রথম এ বিশ্ববিদ্যালয়েই চালু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১০৪টি আধুনিক গবেষণাগার এবং ৫২৭ জনের বেশি শিক্ষক রয়েছেন।
এ ছাড়া বিশ্বের প্রথম ইনস্টিটিউট ফর ইন্টিগ্রেটেড স্টাডিজ অন দ্য সুন্দরবনস অ্যান্ড কোস্টাল ইকোসিস্টেম (IISSCE) এবং দেশের প্রথম সয়েল আর্কাইভও এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিকীকরণের অংশ হিসেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ করেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল স্কুল অব মেডিসিন, জার্মানির ড্রেসডেন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, তুরস্কের আফিয়ন কোকাতেপে বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইরাসমাস মুন্ডাস যৌথ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি কর্মসূচির সঙ্গে বিভিন্ন যৌথ গবেষণা ও একাডেমিক উদ্যোগ রয়েছে।
এ ছাড়া চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, মালয়েশিয়া এবং ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
