প্রকাশিত: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরাবাজার এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একদল কিশোরের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশ্যে মারামারি, ছিনতাই, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে টেংরাবাজার ও আশপাশের এলাকায় কিশোরদের সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন তারা।
স্হানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, "বর্তমান বাংলাদেশের কি একটা অবস্থা ভাবা যায়, একদল কিশোর কীভাবে এতটা ভয়ংকর হয়ে উঠছে। যদি এখনই এসব কিশোর গ্যাংয়ের লাগাম টেনে ধরা না হয়, তাহলে সমাজের নিরাপত্তা আরও বড় হুমকির মুখে পড়বে।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে কোনো বাবা-মাকে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হবে না। অপরাধী যে-ই হোক, তার পরিচয় নয়—তার অপরাধের বিচারই হোক সর্বাগ্রে।"
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, যারা নেপথ্যে থেকে এসব কিশোরকে উসকানি, আশ্রয়-প্রশ্রয় বা মদদ দিচ্ছে, তাদেরও চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসী রাজনগর থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি টেংরাবাজারসহ আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহল জোরদার, কিশোর গ্যাং সদস্যদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. বলেন, "টেংরাবাজার এলাকায় কিশোরদের দিয়ে অপরাধ সংঘটনের বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে"
এদিকে সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা, বেকারত্ব, সামাজিক অবক্ষয় এবং যথাযথ তদারকির অভাবে অনেক কিশোর অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে। তাদের মতে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
