মঙ্গলবার ০৯, জুন ২০২৬

মঙ্গলবার ০৯, জুন ২০২৬ -- : -- --

যুবদল নেতৃত্বে আলোচনার কেন্দ্রে

রাশেদুজ্জামান রাশেদ,জবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

ফাইল ফটো

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আসন্ন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান আসলাম-এর নাম। সংগঠন পুনর্গঠন ও আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সামনে রেখে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে যখন দলে দলে হিসাব-নিকাশ চলছে, তখন তৃণমূল পর্যায়ে তার নাম অন্যতম শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।

দলীয় সূত্র ও নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা এবং সংকটকালীন সময়ে সংগঠন ধরে রাখার ভূমিকা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে। বিশেষ করে প্রকাশ্য লবিংয়ের বাইরে থেকে কেবলমাত্র রাজনৈতিক কর্মদক্ষতা ও ধারাবাহিকতার ভিত্তিতেই তিনি আলোচনায় উঠে এসেছেন।
বরগুনার বেতাগী উপজেলার এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া আসলাম শিক্ষাজীবনে ছিলেন মেধাবী। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে নেতৃত্বে উঠে আসেন।

তার রাজনৈতিক জীবন একাধিক সংঘাতপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী। ১/১১-পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতায় তিনি বহুবার হামলা, আহত হওয়া এবং গ্রেপ্তার পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানান। ২০০৬, ২০১১ ও পরবর্তী বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচিতে তার শারীরিক ক্ষতির ঘটনাগুলো সংগঠনের ভেতরে তাকে “সংগ্রামী নেতা” হিসেবে পরিচিতি দেয়।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তার সক্রিয় ভূমিকা জবি ছাত্রদলকে সাংগঠনিকভাবে আরও দৃশ্যমান করেছে বলে দাবি করেন সহকর্মীরা। ২০২৩ সালের পরের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়েও তার নেতৃত্বে সংগঠন ধারাবাহিক কর্মসূচি বজায় রাখে।

শুধু রাজনৈতিক মাঠেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি তুলনামূলকভাবে সাধারণ জীবনযাপন করেন বলে সহকর্মীদের ভাষ্য। ছাত্ররাজনীতির পাশাপাশি টিউশনি করে নিজের ব্যয় নির্বাহ করতেন—এ বিষয়টি তার সততা ও সংগ্রামী জীবনধারার উদাহরণ হিসেবে বারবার আলোচিত হয়।

শিক্ষাঙ্গনের কয়েকজন শিক্ষকও তার বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক মনে করেন, তার নেতৃত্বে যেমন সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে ঐক্য ছিল, তেমনি তিনি ছিলেন শৃঙ্খলাপরায়ণ ও বিনয়ী স্বভাবের একজন ছাত্রনেতা।

এছাড়া সাহিত্যচর্চার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। সামাজিক বাস্তবতা ও প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে তার কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা যায়, যা তাকে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে একটি ভিন্ন পরিচিতিও দিয়েছে।

নিজের অবস্থান সম্পর্কে আসলাম বলেন, সংগঠনই তার মূল শক্তি। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যে কোনো দায়িত্ব পালন করতে তিনি প্রস্তুত এবং ভবিষ্যতে যুবসমাজকে আরও সংগঠিত ও কর্মমুখী করার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করতে চান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের নেতৃত্ব নির্ধারণে অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা এবং ত্যাগের ইতিহাস বড় ভূমিকা রাখবে। সেই মানদণ্ডে আসাদুজ্জামান আসলামের নাম এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত তাকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্বে পৌঁছে দিতে পারে বলেও অনেকে মনে করছেন।

Link copied!