মঙ্গলবার ১৩, জানুয়ারি ২০২৬

মঙ্গলবার ১৩, জানুয়ারি ২০২৬ -- : -- --

তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘর্ষে গুরুতর আহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:১৪ পিএম

 

রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসে মাদক সেবন ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিন শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাতের ওই ঘটনায় আহতদের দ্রুত সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে, এবং তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

 

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর শামিমা ইয়াসমিন জানান, কলেজের একমাত্র ছাত্রাবাসটি শুধুমাত্র উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য হলেও দীর্ঘদিন ধরেই এটি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। তিনি বলেন, “এমন পরিস্থিতির মধ্যেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। একজন শিক্ষার্থীকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।”

 

তিনি আরও জানান, ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে নজরদারি শুরু করেছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ছাত্রাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে, তবে পরীক্ষাকাল চলায় শিক্ষার্থীদের অসুবিধার কথাও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।

 

অন্যদিকে ছাত্রাবাসে থাকা শিক্ষার্থীরা জানান, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোরশেদ আলম তরুণ–সদস্য সচিব মো. সেলিম হোসেন গ্রুপ এবং সুইডেন আসলাম গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবন, চাঁদাবাজি ও বহিরাগতদের আশ্রয় দেওয়া নিয়ে বিরোধ চলছিল। শনিবার রাতে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয় এবং দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

 

ঘটনায় আহত তিনজন হলেন—সাকিবুল হাসান রানা (বিজ্ঞান বিভাগ, সেশন ২০২৪–২৫), হৃদয় আহমেদ (মানবিক বিভাগ, সেশন ২০২৪–২৫) এবং জান্নাত (আইডিয়াল কলেজ, মানবিক বিভাগ, সেশন ২০২৫–২৬)। অভিযোগ রয়েছে, জান্নাত ছাত্রদলের একটি প্রভাবশালী গ্রুপের সহায়তায় তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসে অবস্থান করতেন।

 

শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, তরুণ–সেলিম গ্রুপের সক্রিয় সদস্য মোমেন পালোয়ান পূর্বে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি ছাত্রাবাসে আধিপত্য বিস্তার করছেন এবং বহিরাগতদের মাধ্যমে নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের হুমকি দেওয়া হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়।

 

সংঘর্ষের পর পুলিশ রাতেই ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভোর পর্যন্ত অবস্থান করে। ঘটনার পর পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

 

Link copied!