প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৮ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তহবিল থেকে টাকা উত্তোলনের পর বিল-ভাউচার জমা না দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যঙ্গাত্মক ‘ভাউচার মেলা’ আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকায় ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অসাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এ আয়োজন করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, পরিবহন চত্বরে আটটি স্টল বসানো হয়েছে। একটি ফটক দিয়ে মেলার প্রবেশপথ তৈরি করা হয়। সেখানে প্রশাসন ভবনের ছবির পেছনে ‘ভাউচার মেলা’ লেখা ব্যানার টাঙানো হয়। ব্যানারে ‘কোথায় তোমার ভাউচার?’, ‘রাকসু ভাউচার দিতে পারেনি!’ এবং ‘হিসাবের ভাউচার নেই’—এমন বিভিন্ন লেখা ও ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন ছিল।
আটটি স্টল আলোকসজ্জায় সাজানো হয়। প্রতিটি স্টলে রাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন ও লেখা প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ভিপি-জিএসের নাশতার বিল, সেলাই মেশিন ও কর্মশালা, সভা-সেমিনার ও বিতর্ক আয়োজন, ডেকোরেটর-সাউন্ড ও প্রজেক্টর ভাড়া, কাওয়ালি দল, বেলচা কেনা, নেপাল সফর, রাকসু গেমস এবং ওয়েলফেয়ার ছাদ ভাড়ার ভাউচার নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।
মেলার প্রবেশপথের ভেতরে টাকার লকারের আদলে একটি ছবি রাখা হয়। সেখানে লেখা ছিল, ‘সবার হিসাব মেলে, আমার হিসাব মেলে না’। এ ছাড়া রাকসুর ভিপি ও জিএসকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান এবং বিভিন্ন গান বাজানো হয়।
আয়োজনের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মাহমুদুল হাসান মিঠু বলেন, ‘রাকসুর তহবিল থেকে এক কোটির বেশি টাকা উত্তোলন করা হলেও ৬১ লাখ টাকার হিসাব দেওয়া হয়নি। এরপর আমরা জানতে পারি, রাকসুর প্রতিনিধিদের ভুয়া ভাউচার তৈরির হিড়িক পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গোপন খবর যেন বাইরে না যায়, সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অসাধারণ শিক্ষার্থীরা এই আয়োজন করেছে।’
বিজয়-২৪ হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গাজী ফৈরদৌস হাসান বলেন, ‘গণমাধ্যমে দেখেছি, রাকসুর ভিপি, জিএস ও এজিএস ফান্ড থেকে টাকা উত্তোলন করেও ভাউচার জমা দেননি। এখন তাঁদের এসব খরচ দেখানোর জন্য ভাউচার প্রয়োজন, তাই ভাউচার মেলার আয়োজন করা হয়েছে।’
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাকসুর তহবিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ সমাবেশ করে শাখা ছাত্রদল।
রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের ব্যয়-সংক্রান্ত নথি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ওই নথি অনুযায়ী, বর্তমান পরিষদ ৪২টি কর্মসূচির বিপরীতে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা উত্তোলন করেছে। এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বিল-ভাউচার এখনো জমা পড়েনি বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
নথি অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি হিসাব বকেয়া রয়েছে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নামে। তিনি ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলন করে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ভাউচার জমা দিয়েছেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
