নোবিপ্রবি থেকে রাকিব মোহাম্মদ আরজু
প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
বৃহস্পতিবার ০৬, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ঘোষণা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং আগামী প্রজন্মের কাছে এর ইতিহাস তুলে ধরতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) একটি জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সকালে প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে বিজয় শোভাযাত্রার মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান, ভিডিও প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। জুলাই যোদ্ধা, শহীদ পরিবার এবং আহতদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং আগামী প্রজন্মের নিকট এর ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্যে নোবিপ্রবিতে অচিরেই একটি জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”
এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা কর্মচারী এবং সব ছাত্রসংগঠনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও ইতিহাসবিরোধী যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও সতর্ক করেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সদস্য নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে রাষ্ট্রীয় আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের সভাপতি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক, উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো ঐক্য। গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য যে আত্মত্যাগ হয়েছে, তা কখনো ভুলে যাওয়া যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় ন্যায্যতা ও ঐক্যের চর্চা অব্যাহত রাখার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান ছিল ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রাম। তিনি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে ভবিষ্যতেও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ এবং সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার।
এ ছাড়া বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, সাংবাদিক, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি জুলাই বিষয়ক চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপাচার্য। দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেলে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।