বৃহস্পতিবার ০৬, আগস্ট ২০২৬

বৃহস্পতিবার ০৬, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

জুলাইয়ে আহতদের চাকরির ব্যবস্থা করবে রাবি প্রশাসন: উপাচার্য

রাবি থেকে মো.রেজওয়ান

প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত "জুলাই গণঅভ্যুত্থান: তারুণ্যের প্রত্যয়, গণতন্ত্রের অঙ্গীকার ও নতুন বাংলাদেশ অভিযাত্রা" শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

বক্তব্যের শুরুতেই উপাচার্য ঘোষণা দেন, জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ে আহতদের অভিজ্ঞতা ও কষ্টের কথা শুনে আমার হৃদয় সত্যিই ব্যথিত হয়েছে। বক্তব্য শুরুর আগে আহত জুলাই যোদ্ধাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়ে আমি আজকের বক্তব্য শুরু করতে চাই।’

উপাচার্য বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ আগস্ট ২০২৪-এ বিদায় নিলেও তারা আবার মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হলেই তারা শক্তি পাবে। তাই দল-মতনির্বিশেষে জুলাইয়ে অংশ নেওয়া সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে ফ্যাসিবাদ আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে জনগণের রায় এবং জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা পাবে। আহতদের উদ্বেগ আমাদের সবার উদ্বেগ হওয়া উচিত। এ দেশের মাটিতে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আর কখনো ফ্যাসিবাদের স্থান হবে না।’

সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, মানবতা ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে রক্ষার যে সংগ্রাম হয়েছে, তার গুরুত্ব অস্বীকার করার চেষ্টা হচ্ছে, যা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে মানুষের বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হয়েছিল। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের চাপের মধ্যে ছিলেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জুলাই আন্দোলনে আহত মণিরাজ। তিনি বলেন, আন্দোলনের ১৭ মাস পেরিয়ে গেলেও অনেক আহত ব্যক্তির সরকারি গেজেট প্রকাশ হয়নি। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ যেন বঞ্চিত না হন এবং যাঁরা এখনো গেজেটভুক্ত হননি, তাঁদের দ্রুত রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হোক।

অনুষ্ঠানে আরেক আহত ব্যক্তি ইমরান বলেন, ১৯ জুলাই মিরপুরে কর্মস্থলে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি একটি পা হারান। তাঁর ভাষ্য, ‘জুলাই মাসের কথা উঠলে অনেকের মুখে হাসি দেখি। কিন্তু আমাদের মতো আহতদের জন্য জুলাই মানে অনেক ত্যাগ আর বেদনার স্মৃতি। আমরা চাই, আমাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হোক এবং যে স্বপ্ন নিয়ে আন্দোলন হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হোক।’

এ সময় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, হল প্রাধ্যক্ষ, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, আলোচনা সভার পাশাপাশি দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণ, আর্ট ক্যাম্পের উদ্বোধন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: রং তুলিতে মুক্ত স্বদেশ’ শীর্ষক চিত্রাঙ্কন কর্মসূচি এবং দোয়া মাহফিল।

Link copied!