শুক্রবার ৩১, জুলাই ২০২৬

শুক্রবার ৩১, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

রাবিতে সহিংসতা: রাকসু জিএস আম্মারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন

রাবি থেকে মো.রেজওয়ান

প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১২:১৯ এএম

ফাইল ফটো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২৭ জুলাইয়ের সহিংসতার ঘটনায় আহত শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান মাহিনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রাকসু সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার, সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বিরসহ নয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে। তবে আদালত মামলাটি সরাসরি আমলে না নিয়ে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দিয়েছেন।

বুধবার রাজশাহীর মতিহার আমলি আদালতে মাহিনের বাবা এম এস আসাদ উজ জামান মামলার আবেদন করেন। মাহমুদুল হাসান মাহিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন নাজমুস সাকিব, মেহেদী সজীব, ফাহিম রেজা, আরিফুল ইসলাম, আহসান উল্লাহ ফারহান, সিফাত আবু সালেহ ও নুরুল ইসলাম শহীদ। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৭ থেকে ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭ ও ৩৪ ধারায় করার আবেদন করা হয়েছে।

মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, ২৭ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভেতর ও বাইরে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড, বেল্ট ও বাঁশের লাঠি নিয়ে মাহিনকে ধাওয়া ও মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে কয়েকজন তাঁকে মাটিতে ফেলে বুক ও গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। পরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অন্যরা তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে তাঁকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে টেনে নামিয়ে আবারও মারধর করা হয়। পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

বাদী আসাদ উজ জামান অভিযোগ করেন, ২৮ জুলাই তিনি মতিহার থানায় মামলা করতে গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাঁকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী হযরত আলী বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নেননি; বরং তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বাদী আবেগের বশে মামলাটি করেছেন। মাহিন বর্তমানে অন্য একটি মামলায় কারাগারে আছেন।’

গত ২৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে এক শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের রিডিং রুমে হামলা, পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ এবং অ্যাম্বুলেন্স থেকে আহত শিক্ষার্থীকে টেনে নামিয়ে মারধরের ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

Link copied!