রাশেদুজ্জামান রাশেদ,জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৩:২০ পিএম
শুক্রবার ৩১, জুলাই ২০২৬ -- : -- --
ফাইল ফটো
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠন 'রিপোর্টার্স ইউনিটি'র গঠনতন্ত্র তড়িঘড়ি করে সংশোধন, উপাচার্যকে প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে বাদ দেওয়া এবং ভিন্নমত পোষণ করায় সাংবাদিকদের নিউজ গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বর্তমান কিছু উপদেষ্টার বিরুদ্ধে।
একাংশের সাংবাদিকদের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনটিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে ‘পুরানো ফ্যাসিবাদী কায়দায়’ দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে একটি পক্ষ।
রিপোর্টার্স ইউনিটির গঠন্তন্ত্রের ৬ষ্ঠ ধারা অনুযায়ী, এতদিন সংগঠনের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ও নৈতিক অভিভাবকত্ব ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের হাতে। সংগঠনের বহুল প্রচলিত গঠনতন্ত্রের ৬ষ্ঠ ধারা অনুযায়ী,
প্রধান উপদেষ্টা: বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য (বর্তমানে অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন)।
দ্বিতীয় উপদেষ্টা: বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার।
তৃতীয় উপদেষ্টা:সংগঠনের প্রতিষ্ঠালীন সভাপতি আল রাজি অনিক।
চতুর্থ উপদেষ্টা: সংগঠনের প্রতিষ্ঠালীন সাধারণ সম্পাদক মো: নাজমুল হাসান।
তবে সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে, কিছুদিন আগে গত ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখের প্রকাশিত একটি ছবে দেখা যায়,সংগঠনটির পূর্ববর্তী গঠনতন্ত্র তড়িঘড়ি করে বাতিল বা সংশোধন করতে নতুন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড রইছ উদ্দীনকে বাদ দিয়ে রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে আনা হয়েছে।
সংগঠনের একাংশের সাধারণ সদস্যদের অভিযোগ, এই গঠনতন্ত্র সংশোধন স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হয়নি। সদস্যদের ওপর অন্যায্য প্রভাব খাটিয়ে এবং চাপের মুখে স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে। পরবর্তীতে এই জালিয়াতি বা কেলেঙ্কারী ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি করে ওই স্বাক্ষর নেওয়ার দৃশ্য ভিডিও করে রাখা হয়, যাতে এটি 'স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়েছে' বলে প্রচার করা যায়।
গঠনতন্ত্রের নীতিবহির্ভূত পরিবর্তন এবং একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিরোধিতা করায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী,জ্যেষ্ঠ ৫ জন সাংবাদিক এই পরিবর্তনের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করায় এবং সভাপতিকে বহিষ্কারের বিষয় নিয়ে কথা বলায় তাদের অফিসিয়াল নিউজ গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ সাংবাদিকদের মতে, ভিন্নমত দাবিয়ে রাখার এই চর্চা স্বাধীন গণমাধ্যমের মূল চেতনার পরিপন্থী এবং পেশাদার সাংবাদিক সংগঠনকে কুক্ষিগত করার শামিল।
সকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে রিপোর্টার্স ইউনিটির বর্তমান সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন।
ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন,"বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ এবং কতিপয় ফ্যাসিবাদী আওয়ামীপন্থী শিক্ষকের প্রত্যক্ষ মদদে ক্যাম্পাসে এসব হতো। একজন সাংবাদিক সংগঠনের সভাপতি কীভাবে চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজি করতে পারে?"
তিনি দাবি করেন, তার ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ও আমাকে বহিষ্কার করে ফ্যাসীবাদী একনায়কতন্ত্র কায়েম করতে চাচ্ছে কিছু কতিপয় স্বার্থান্বেষী উপদেষ্টা মহল। এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়ানোর দায়ে তিনি অভিযুক্ত উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলেও জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক সাংবাদিক সংগঠনগুলো সবসময় ক্যাম্পাসের অনিয়ম ও শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার ভূমিকা পালন করে। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, কোনো সংগঠনে স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব দেখা দিলে সেখানে নিরপেক্ষতা ব্যাহত হয়।
সংগঠনের গঠনতন্ত্র পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক বিষয় হলেও, প্রশাসনিক প্রধানকে বাদ দেওয়া এবং মতামত প্রকাশের অপরাধে সাংবাদিকদের বাদ দেওয়ার খবর ক্যাম্পাসের সার্বিক সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য একটি নেতিবাচক ইঙ্গিত দেয়। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা।