প্রকাশিত: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে পা দিয়ে লিখে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন রংপুরের কাউনিয়া কলেজের শিক্ষার্থী কলি রানী। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) শুরু হওয়া পরীক্ষায় রংপুরের কাউনিয়া মহিলা কলেজ কেন্দ্রে মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নিয়েছেন তিনি। শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাঁর শিক্ষার পথ রুদ্ধ করতে পারেনি। মনের শক্তি, অধ্যবসায় আর শিক্ষার প্রতি গভীর ভালোবাসাই হয়ে উঠেছে তার বড় ভরসা।
জানা গেছে, কাউনিয়া উপজেলার গদাই গ্রামের রুপালী রানীর মেয়ে কলি রানী। জন্ম থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী কলি রানী, তবুও থেমে যায়নি লেখাপড়া। যখন তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে তখনই বাবা মনোরঞ্জন রায় পরলোকগমন করেন। তিনি ৩ ভাই ৩ বোনের মধ্যে সবার ছোট।
পরিবারের সহযোগিতায় প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে কলি পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন স্বপ্ন পূরণের আশায়। শুধু তাই নয়, তিনি ভালো গানও গাইতে পারেন। ইতোমধ্যে গান গেয়ে একাধিক সম্মাননা স্মারক অর্জন করেছে। পা দিয়ে চালাতে পারেন কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনও।
কলি রানী বলেন, তার ইচ্ছা পড়ালেখা শেষ করে বিসিএস ক্যাডার হয়ে মানুষের সেবা করবেন। দেখিয়ে দিতে চান, ইচ্ছার কাছে বাধা নয় শারীরিক প্রতিবন্ধকতা। পঞ্চম শ্রেণীতে সে পায়ে লিখে এ-গ্রেড পেয়েছিলেন। এসএসসিতে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন অদম্য এই শিক্ষার্থী।
কলি রানীর ভাই মন্টু রাম রায় বলেন, জন্ম থেকেই তার বোনের হাতের আঙ্গুল নেই, হাত বাকা ও ছোট, তাই হাত দিয়ে কলম ধরতে পারে না। বোনের অদম্য ইচ্ছা শক্তি দৃঢ় মনোবলে ডান পা দিয়ে আস্তে আস্তে লেখা শুরু করে। ধীরে ধীরে লিখতে লিখতে দ্রুত গতিতে লেখার কৌশল আয়ত্ব করেছে। তিনি বোনের স্বপ্ন পূরণের জন্য বিত্তবান ও দয়াবান মানুষের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা চেয়েছেন।
কাউনিয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ও কেন্দ্র সচিব মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষা কক্ষে অন্যদের সাথে কলি রানী পা দিয়ে খাতায় লিখছে। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় কেন্দ্রের নিয়ম মেনে তাকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট দেওয়া হয়েছে। উচ্চশিক্ষা গ্রহণে তার এই স্বপ্নের পথচলায় সাফল্য কামনা করি।
কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা বলেন, ‘কলি রানীকে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আটকে রাখতে পারেনি। আমরা চাই তার অদম্য অগ্রযাত্রা যেন থেমে না যায়। সে যেন উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। উপজেলা প্রশাসন তার পাশে থাকবে।’
