মঙ্গলবার ১৯, মে ২০২৬

মঙ্গলবার ১৯, মে ২০২৬ -- : -- --

যবিপ্রবির নতুন উপাচার্যের কাছে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

যবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬, ০৮:২৩ এএম

যবিপ্রবির নতুন উপাচার্যের কাছে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম উপাচার্য হিসেবে তাঁর যোগদানকে ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন আশাবাদ ও প্রত্যাশা। নতুন প্রশাসনের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গতি আসবে এবং যবিপ্রবি দেশের অন্যতম শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে আশা করছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাস সম্প্রসারণ, আবাসন সুবিধা বৃদ্ধি, আধুনিক শিক্ষা প্রযুক্তির সংযোজন, গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ, মেডিকেল সেন্টারে সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ দেখতে চান তারা। পাশাপাশি পরিবহন সংকট নিরসন, লাইব্রেরি সুবিধা বৃদ্ধি এবং একাডেমিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার দাবিও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যাশার কথা জানিয়ে ফার্মেসি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শিহাব সাদিক বলেন, "বর্তমানে যবিপ্রবি দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম আলোচিত এক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিবছর প্রায় হাজারখানেক মেধাবী শিক্ষার্থী আকাশচুম্বী প্রত্যাশা নিয়ে এখানে ভর্তি হয়। সেই শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে ক্যাম্পাস সম্প্রসারণ, একাডেমিক ভবনে লিফট সমস্যা সমাধান ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা, আবাসিক হলগুলোতে সুযোগ - সুবিধা বৃদ্ধি, দ্রুত ফল প্রকাশ, ক্যাফেটেরিয়ার মানোন্নয়ন, বর্ষাকালে খেলার উপযোগী মাঠ তৈরি , পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা, উচ্চগতির ওয়াইফাই এবং আধুনিক ক্লাসরুম নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি সকল প্রকার প্রকাশ্য ও গোপন রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা। আশা করি নবনিযুক্ত উপাচার্য স্যার এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে যবিপ্রবির উন্নয়নের ধারা আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন।"

ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কলি জাহান বলেন, "নতুন উপাচার্যের আগমন শুধু প্রশাসকের পরিবর্তন নয় বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার সূচনা। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে নতুন উপাচার্য স্যারের নিকট আমার প্রত্যাশা, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ক্যাম্পাসের আয়তন বৃদ্ধি, ক্লাসরুম ও শিক্ষক সংকট নিরসন এবং ল্যাব, একাডেমিক ভবনের লিফট সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে সুপেয় পানি, বসার স্থান ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করবেন। লাইব্রেরিতে সব বিভাগের একাডেমিক বইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, হলের সিট সংকট সমাধান ও খাবারের মান উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা করবেন। মেডিকেল সেন্টারে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা জরুরি চিকিৎসা সেবা, ল্যাব টেস্ট ও পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করবেন। এছাড়া জব ফেয়ার, ইন্টার্নশিপ ও আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নিয়মিত মতবিনিময়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করি।"

রসায়ন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবিদ হাসান তানভির বলেন, "দেশসেরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যবিপ্রবির প্রতি সবার প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়টি আরও আধুনিক, গবেষণানির্ভর ও শিক্ষাবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক। আশা করি নতুন উপাচার্য স্যার একাডেমিক কার্যক্রমে আরও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গবেষণায় সরকারি - বেসরকারি সহায়তা বৃদ্ধি, লাইব্রেরি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বৃহত্তর ক্যাম্পাসের পরিকল্পনা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করি।"

পেট্রোলিয়াম এন্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আফরিদা হোসাইন আনিকা বলেন, "একজন শিক্ষার্থী হিসেবে নতুন উপাচার্য স্যারের কাছে আমার প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক পড়ালেখার পাশাপাশি গবেষণার জন্য শিক্ষার্থীদের আরও উৎসাহিত করতে এবং গবেষণার জন্য ফান্ড ও ল্যাব সুবিধা বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সকল বিভাগের ক্লাসরুমগুলোতে মাল্টিমিডিয়া ও ডিজিটাল বোর্ডসহ আধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধা প্রয়োজন। আবাসিক হলগুলোতে ক্যান্টিন ও সকাল বেলায় খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়ছে। পাশাপাশি লাইব্রেরিতে বাংলা সাহিত্যের বই সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান ও মূল্য নিয়েও নজর দেওয়া প্রয়োজন। এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ আরও শিক্ষার্থীবান্ধব হবে বলে মনে করি।"

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ মিনহাজ রহমান বলেন, "যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নবীন শিক্ষার্থী হিসেবে আপনাকে আমাদের মাঝে পেয়ে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। আপনার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় আরও আধুনিক, শিক্ষাবান্ধব ও গবেষণামুখী হয়ে উঠবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমরা চাই সেশনজটমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত গবেষণাগার, সহশিক্ষা কার্যক্রমের সুযোগ এবং নিয়মিত ক্যারিয়ার ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক আয়োজন। সর্বোপরি, আপনাকে আমরা একজন অভিভাবক হিসেবে দেখতে চাই, যিনি শিক্ষার্থীদের কথা শুনবেন এবং তাদের পাশে থাকবেন। আপনার হাত ধরে যবিপ্রবি সাফল্যের পথে আরও এগিয়ে যাবে—এই বিশ্বাস আমাদের রয়েছে।"

ফিশারিজ এন্ড মেরিন বায়েসাইন্স বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাফিছা সুলতানা বলেন, "সম্প্রতি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্যের যোগদান শিক্ষার্থীদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি আশা করি নতুন উপাচার্য স্যারের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ তৈরি, শিক্ষা ও গবেষণায় অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে যবিপ্রবি আরও এগিয়ে যাবে। বিশেষ করে ক্যাম্পাসের আয়তন সম্প্রসারণ, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে শিক্ষার্থীদের জন্য বসার জায়গার ব্যবস্থা, সকল বিভাগে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান উন্নয়ন এবং পরিবহন সমস্যার সমাধানের দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়াও দূরবর্তী রুটে বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।"

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, নতুন উপাচার্যের নেতৃত্বে যবিপ্রবি একটি আধুনিক, গবেষণানির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সমৃদ্ধ ও কার্যকর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হবে।

Link copied!