প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২৬, ১১:৫০ পিএম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস যখন উত্তাল, ঠিক তখনই আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ। মূল অপরাধীকে আড়াল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ. কে. এম রাশিদুল আলমের ওপর চড়াও হওয়া এবং সাংবাদিকদের হেনস্তার প্রতিবাদে আজ সোমবার (১৮ মে) দুপুর আড়াইটায় এক পাল্টা মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের প্রধান ফটকের সামনে হল সংসদ ও সাধারণ আবাসিক শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন
সমাবেশে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম আবর্তনের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের আবাসিক শিক্ষার্থী বোরহান সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান,আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি বদল: শুরুতে জাবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অপরাধীর শাস্তির দাবিতে মাঠে নামলেও, পরবর্তীতে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী একে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। যার ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ কমে গেছে।
মূল দাবি থেকে বিচ্যুতি
বর্তমানে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা। কিন্তু তা না করে আন্দোলনের নামে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর 'ট্যাগিং' ও অপমানজনক আচরণ করা হচ্ছে, যা ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা মাত্র।
শিক্ষার্থীদের অবস্থান: যৌক্তিক যেকোনো দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা পাশে থাকবে, তবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ক্যাম্পাসকে অশান্ত করার কোনো চক্রান্তকে তারা সমর্থন করবেন না।
স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্তের নিন্দা
সমাবেশে হল সংসদের জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) আবরার শাহরিয়ার চলমান আন্দোলনের তীব্র সমালোচনা করে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তার মতে,"ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মতো জঘন্য অপরাধের বিচার আমরা সবাই চাই। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই স্পর্শকাতর ঘটনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাইছে।"
তিনি আরও যোগ করেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হল প্রাধ্যক্ষ যেভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছেন এবং উপাচার্যকে যেভাবে 'ফ্যাসিস্ট' আখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বর্তমান প্রক্টর শিক্ষার্থীদের স্বার্থেই কাজ করছেন, অথচ তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে।
সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দুর্বলতাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের দাবি জানান, যাতে মূল অপরাধীর বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত না হয়। মানববন্ধনে হলের আবাসিক সংসদের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
