জাককানইবি থেকে রবিউল ইসলাম শাকিল
প্রকাশিত: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
রবিবার ০৮, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ -- : -- --
ফাইল ফটো
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) নিজস্ব সংস্কৃতির পরিচয় বহন করা 'কুয়াশা উৎসব' এ বছর আলোর মুখ দেখছে না। ২০১৯ সাল থেকে প্রতিবছর শীতের মৌসুমে জমকালো আয়োজনে এই উৎসব পালিত হলেও এবার মাঠের সংস্কার কাজসহ অবকাঠামোগত সংকটে তা থমকে গেছে।
শীতের স্নিগ্ধতা বিদায় নিলেও ক্যাম্পাসে উৎসবটি না হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে।ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ইসতিয়াক আহমেদ সিফাত বলেন, বহু বছরের ঐতিহ্যের সাথে জড়িয়ে থাকা এই উৎসব আজ বিলুপ্তির পথে যা সত্যিই হতাশাজনক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা, ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ, নাট্যকলা ও পরিবেশনবিদ্যাসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এই উৎসবটি গত কয়েক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছিল। চিত্রকলা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, লোকনৃত্য, ঘাটু গান এবং রস উৎসবের মতো বিচিত্র আয়োজনে মুখর থাকা ক্যাম্পাস এবার নিস্তব্ধ।
এবারের আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঐশ্বর্য সরকার এই অচলাবস্থার জন্য অবকাঠামোগত সংকটকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “উৎসবের প্রাথমিক উদ্যোগ ও মহড়া শুরু হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে সংস্কার কাজ চলায় আমরা বড় কোনো আয়োজন করতে পারিনি। এমনকি মুক্তমঞ্চেও আমাদের নির্ধারিত সময়ে বিভিন্ন ক্রীড়া টুর্নামেন্ট চলছিল। সেই টুর্নামেন্টগুলো শেষ হতে হতে শীতের আমেজই প্রায় শেষ হয়ে যায়। মূলত মাঠসহ অবকাঠামো সংক্রান্ত এই প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণেই এবার আয়োজনটি সম্ভব হয়নি।”
উৎসবটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সরাসরি ব্যবস্থাপনায় না হলেও, এর নেপথ্যে সবসময়ই ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিক সমর্থন। এবারের স্থবিরতা নিয়ে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম বলেন, “কুয়াশা উৎসব মূলত শিক্ষার্থীদের উদ্যোগেই পরিচালিত হয়, প্রশাসন সেখানে সহযোগীর ভূমিকা পালন করে। তবে এ বছর উৎসবটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমার দপ্তরে কেউ যোগাযোগ করেনি।”
বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, কোনো করপোরেট স্পন্সর ছাড়াই সম্পূর্ণ গণ-অর্থায়নে এবং শিক্ষার্থীদের নিজস্ব শ্রমে উৎসবটি পরিচালিত হয়েছে। ২০২৫ সালেও যেখানে লেখক, গায়ক ও গবেষকদের সরব পদচারণায় ক্যাম্পাস মুখরিত ছিল, সেখানে ২০২৬-এর এই সময়ে এসে মাঠের অবকাঠামো সংকটে উৎসবটি চাপা পড়ে গেছে।
তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা আর সঠিক সময়ে সমন্বয়ের অভাবে এই ঐতিহ্যবাহী চর্চায় ছেদ পড়ায় ক্ষুব্ধ সাংস্কৃতিক কর্মীরা। শীত শেষে বসন্তের আগমনী বার্তা এলেও নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মনে রয়ে গেছে একটি সার্থক কুয়াশা উৎসব হারোনোর আক্ষেপ।