রবিবার ২৫, অক্টোবর ২০২৬

রবিবার ২৫, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --

‘যে দলের সরকার, আমি সেই দলের নেতা’ আমাকে ভাইরাল করেন,আমি ভাইরাল হতে চাই - ইউএনও

উপজেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম

সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমানের রাজনৈতিক ও নির্বাচনি বক্তব্যে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদারের প্রকাশ্যে করতালি দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে দেওয়া বক্তব্যে ইউএনও’র এমন প্রকাশ্য সমর্থনে স্থানীয়ভাবে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে সম্প্রতি পীরগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর সেনগাঁও ইউনিয়নের একটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময়। সেখানে উপস্থিত হয়ে সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমাকে আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে এমপি নির্বাচিত করেছেন। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে আবারও বর্তমান ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান প্রার্থী হিসেবে থাকবেন। আপনারা সবাই তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।”

এমপির দুই মিনিটের বেশি সময়ের এই বক্তব্যের সময় পাশে বসা ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদারকে সবার আগে হাততালি দিতে দেখা যায়। পুরো বক্তব্যজুড়েই তিনি করতালি দিয়ে সমর্থন জানিয়ে যান। ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর সরকারি কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নেটিজেন ও স্থানীয় রাজনীতিবিদেরা।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তাহলে লিখে দেন, এমপির সাথে ইউএনও নির্বাচনি প্রচারণায়। আপনি শোনেন, এভাবে বলেন যে, ইউএনও হচ্ছে নাউ ওয়ান অব দ্য বিএনপি লিডারস অব পীরগঞ্জ, ঠিক আছে?”

নিজের সরকারি পদের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “যে সরকার থাকত, যে দলের সরকার থাকত, আমি সেই দলেরই নেতা। বোঝা গেছে মেসেজটা? আমার দল আছে। আমার দল কী? সরকারি দল। আমার আদর্শ সরকারি দলের আদর্শ। তাহলে আপনার ওই অংশটুকুই খালি ক্লিপে বের করেন আর লিখে দেন, যাতে করে আমি একটু ভাইরাল হই সারা দেশে। আই ওয়ান্ট টু বি ভাইরাল, ওকে?”

প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে ইউএনও আরও যোগ করেন, “এগুলোর বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা আমার কেন, আমার সেক্রেটারিরই নাই, আমার ডিসি স্যারের নাই, আমার কমিশনার স্যারের নাই। পরিষদের আমি প্রশাসনিক কর্মকর্তা। সব কাজ সংসদ সদস্যকে জিজ্ঞেস করে করতে হবে। চিঠি আছে আমার কাছে, দেখবেন আপনি?”

এদিকে একজন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীর এমন রাজনৈতিক আচরণ ও মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ঠাকুরগাঁও জেলার সাধারণ সম্পাদক আবু সায়েম বলেন, “একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে একজন এমপির রাজনৈতিক ও নির্বাচনি প্রচারণামূলক বক্তব্যে হাততালি দিতে পারেন? যেখানে এমপি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একজনকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছেন, সেখানে ইউএনও অতিউৎসাহী হয়ে সমর্থন জানাচ্ছেন। এটি সরকারি আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন ও কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সরকারি পদে আসীন থেকে এমন দলীয় আচরণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও তদন্ত দাবি করছেন সচেতন মহল।

Link copied!