বুধবার ১৪, অক্টোবর ২০২৬

বুধবার ১৪, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --

কুবির বিজয়-২৪ হলে শিক্ষার্থীদের দাবি, সমস্যা  সমাধানের আশ্বাস দিলেন প্রভোস্ট

কুবি থেকে আহসান হাবিব রাফি

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩১ এএম

সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিজয়-২৪ হলের নবনিযুক্ত প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিনের সঙ্গে আবাসিক শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শিক্ষার্থীরা হলের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। এসব সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার আশ্বাস দেন প্রভোস্ট।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ৯টায় হলের টিভি রুমে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

হলের হাউস টিউটর গোলাম মাহমুদ পাভেলের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন হলের নবনিযুক্ত প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিন। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক হারুন, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রভোস্ট ড. মো. জনি আলম, বিভিন্ন হলের হাউস টিউটর এবং বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

সভায় শিক্ষার্থীরা হলের সামনের গেটের সিঁড়ি সংস্কার, ইন্টারনেট সংযোগের উন্নয়ন, ডাইনিংয়ের খাবারের মান নিশ্চিত করা, রিডিং রুমে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপন, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি নবীনবরণ, প্রবীণ বিদায়, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তাবও দেন তাঁরা।

আবাসিক শিক্ষার্থী আদনান সাইফ বলেন, ‘পূর্ববর্তী প্রশাসনকেও আমরা বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়েছিলাম, কিন্তু সেগুলোর সমাধান হয়নি। উপাচার্য স্যারের সঙ্গে আলোচনার সময় হলের সামনের গেটের সিঁড়ির সমস্যার কথা বলেছিলাম। তিন মাস পেরিয়ে গেলেও সমস্যাটি আগের মতোই রয়ে গেছে।’

আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী মো. নাঈম হলের ইন্টারনেট ও খাবারের মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের হলের বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে ইন্টারনেট অন্যতম। আমাদের কক্ষগুলোতে যে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়, তা দিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ করাও কঠিন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিলাসবহুল জীবনযাপন চাই না। হলে অন্তত খাবারের মান ভালো থাকুক এবং নিরাপদে ঘুমাতে পারি—এটুকুই আমাদের প্রত্যাশা।’

সভায় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রভোস্ট ড. মো. জনি আলম বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাত্র ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে আবাসিক সুবিধা দিতে পারি। বাকি ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য হলে আসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।  শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া হল প্রভোস্টের কাছে তুলে ধরা উচিত। শিক্ষার্থীদের সেবা ও প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়াই হল প্রশাসনের দায়িত্ব। বিশেষ করে নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশাসনকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে ।'

সভাপতির বক্তব্যে প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘হলের নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তার প্রশ্নে একচুলও ছাড় দেওয়া হবে না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মাদক, বহিরাগত, আবাসন ও ডাইনিংসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে করণীয় ঠিক করা হবে। আমি আমার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চেষ্টা করব। পাশাপাশি সমস্যাগুলো সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনুরোধ জানাব।’

Link copied!