প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও শিবির নেতা আরিফুল ইসলামসহ চারজনের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে স্থগিতের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। শুক্রবার দুপুর ১২টায় উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অপরাধের ধরন ও মাত্রা বিবেচনায় আহসান হাবীব, বিশাল চক্রবর্তী, হাসিবুল হাসান ও আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে স্থগিতের সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ইন্ধনদাতা হিসেবে রাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম এবং হামলার ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, সহসাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম ও ছাত্রদলকর্মী তানিম রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণাদি অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।
তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক রেজাউল করিম জানান, হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম ও রাকিবুল ইসলামকে শাস্তির আওতায় আনার সুপারিশের কারণ, তাঁরা হামলার ঘটনায় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছেন বলে কমিটির পর্যবেক্ষণ।
যেভাবে উত্তেজনার সূত্রপাত
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২ অক্টোবর রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ফেসবুকে আক্রমণাত্মক পোস্ট দেন রাবি শাখা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহসভাপতি আহসান হাবীব। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে রাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে উভয় পক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দেয়।
এরপর ৩ অক্টোবর রাকিবুল ইসলাম ঘোষণা দিয়ে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটের সামনে অবস্থান করেন। পরে বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে সেখানে অবস্থান নেন ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীব। তাঁরা রাত ১০টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থানের ঘোষণা দেন।
অবস্থানকালে আহসান হাবীব ফেসবুকে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে উদ্দেশ করে কটূক্তিমূলক পোস্ট দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে পাল্টা আক্রমণাত্মক ভাষায় পোস্ট দেন শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস ও শিবির নেতা আরিফুল ইসলাম। ওই পোস্টে তিনি আহসান হাবীব ও তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশে কটূক্তি করেন।
এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হল সংসদের জিএসের কক্ষে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার পর ভিডিও ও সংবাদ সংগ্রহের সময় আহসান হাবীবের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে।
‘বাকস্বাধীনতায় আঘাত’
ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে স্থগিতের সুপারিশের বিষয়ে আরিফুল ইসলাম বলেন, অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দিনভর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে মহড়া দিয়েছেন। তাঁরা সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে হুমকি-ধমকি ও গালিগালাজ করেছেন। এর জবাবে তিনি ফেসবুকে একটি পাল্টা পোস্ট দিয়েছিলেন।
আরিফুল বলেন, ওই পোস্টের জের ধরে অস্ত্রধারীরা তাঁর খোঁজে আসেন এবং তাঁকে না পেয়ে কক্ষে ভাঙচুর চালান। এ সময় সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপরও হামলা করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমি রুমে থাকলে হয়তো তারা আমাকে মেরেই ফেলত। ভাগ্যক্রমে সে সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে আরিফুল বলেন, ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কারণে ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে স্থগিতের সুপারিশ তাঁর বাকস্বাধীনতার ওপর আঘাত। তিনি এ সিদ্ধান্তকে নিজের প্রতি ‘অন্যায় বিচার’ বলে অভিহিত করেন।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪ অক্টোবর রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে সংঘটিত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা এবং দোষীদের শাস্তির সুপারিশ করতে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তুত করা প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত কমিটি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী চূড়ান্ত সুপারিশ ঘোষণা করা হলো। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। অধিকতর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।’
