মৌলভীবাজার থেকে রাজন হোসেন তৌফিক
প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১১ এএম
শনিবার ০৩, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --
সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় একটি মৎস্য খামারে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ২০ টন মাছ মারা গেছে বলে দাবি করেছেন খামারের মালিক ইলিয়াস মিয়া সরদার। তার দাবি, রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা খামারের পানিতে বিষ প্রয়োগ করে থাকতে পারে। এ ঘটনায় আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের ধামাই চা বাগানের নলডুড়ী বস্তি সংলগ্ন এলাকায় ইলিয়াস মিয়া সরদারের প্রায় ৫০ বিঘা জমির মৎস্য খামারে এ ঘটনা ঘটে। সকালে খামারের পানিতে বিপুল সংখ্যক মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোর থেকে প্রায় ২০ জন শ্রমিক খামার থেকে মরা মাছ তুলে গর্ত করে মাটিচাপা দিচ্ছিলেন। বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যাওয়ায় আশপাশের এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
খামার মালিক ইলিয়াস মিয়া সরদার দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষের সঙ্গে জড়িত। তার পরিবার জানায়, দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও পুঁজি বিনিয়োগ করে তিনি এ খামার গড়ে তুলেছেন। একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ইলিয়াস মিয়া সরদারের ছেলে আব্দুর রহিম বলেন, “আগামীকাল মাছগুলো বাজারে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেছে। অক্সিজেনের অভাবে এভাবে এত মাছ মারা যাওয়ার ঘটনা আগে দেখিনি। আমার ধারণা, বাবার সঙ্গে কারও শত্রুতার কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে।”
পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, খামারে মাছের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন।
জুড়ী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফজল বলেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে।