শনিবার ১৫, আগস্ট ২০২৬

শনিবার ১৫, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রিসোর্স ম্যাটেরিয়ালস ফাইনালাইজেশন’ কর্মশালা

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের অ্যাপ্লাইড আইসিটি কোর্সকে আরও সময়োপযোগী, শিক্ষার্থীবান্ধব ও কর্মমুখী করতে তিন দিনব্যাপী ‘রিসোর্স ম্যাটেরিয়ালস ফাইনালাইজেশন’কর্মশালা শুরু হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করার পাশাপাশি বাস্তব জীবনে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টি সামনে রেখে এ কর্মশালায় রিসোর্স বুক ও অনলাইন কনটেন্টের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে ইউনিসেফ বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত এ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, উচ্চশিক্ষাকে সময়োপযোগী করতে আধুনিক রিসোর্স ম্যাটেরিয়াল ও অনলাইন কনটেন্টের বিকল্প নেই। তাঁর মতে, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এখন শিক্ষা, গবেষণা, কর্মসংস্থান ও দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই শিক্ষার্থীদের এমনভাবে শেখাতে হবে, যাতে শ্রেণিকক্ষের জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা যায়।

তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অ্যাপ্লাইড আইসিটির শিক্ষাসামগ্রী তৈরি করতে হবে। কনটেন্টের ভাষা সহজ ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন, যাতে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা সহজে বিষয়বস্তু বুঝতে পারে।

কর্মশালায় অ্যাপ্লাইড আইসিটি কোর্সের রিসোর্স ম্যাটেরিয়ালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, ডেটা ম্যানেজমেন্ট, সাইবার সিকিউরিটি ও ডিজিটাল কমিউনিকেশনের মতো পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি বিষয় অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের প্রস্তুতির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে ডিজিটাল মার্কেটিং ও গিগ ইকোনমির মতো বিষয়কে ব্যবহারিকভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ফ্রিল্যান্সিং, আয়মুখী কাজ এবং ডিজিটাল উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।

ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য প্রযুক্তি শেখে, তা নয়; বরং বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধান, কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নতুন কিছু উদ্ভাবনের সক্ষমতা অর্জন করে,সেভাবেই কোর্সের বিষয়বস্তু সাজাতে হবে।

রিসোর্স বুক ও অনলাইন কনটেন্টের পর্যালোচনা

কর্মশালার প্রথম দিনে রিসোর্স বুকের বিভিন্ন অধ্যায় ও টপিক নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। বিষয়বস্তুর যথার্থতা, শিক্ষার্থীদের উপযোগিতা, শিক্ষাদান পদ্ধতি, ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং অনলাইন কনটেন্টের সঙ্গে সামঞ্জস্য,এসব বিষয় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা মতামত দেন।

বিষয়বস্তুকে আরও সহজবোধ্য, সমৃদ্ধ ও ব্যবহারিক করতে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনের সুপারিশও করা হয়। কর্মশালার পরবর্তী দুই দিনে এসব মতামতের ভিত্তিতে রিসোর্স বুক ও অনলাইন কনটেন্টের চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার কথা রয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ায় একই মানের আধুনিক শিক্ষাসামগ্রী সবার কাছে পৌঁছে দেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পাশাপাশি কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কর্মশালায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণ দপ্তরের পরিচালক সালমা পারভীনের সঞ্চালনায় ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস স্টাডিজের চেয়ারম্যান মো. মুজাহিদুল ইসলাম, আইসিটি (কারিকুলাম)-এর ফোকাল পার্সন সহযোগী অধ্যাপক ড. নাজমা তারা, ইউনিসেফের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ফাহমিদা শবনম ও ইস্তানুল কবিরসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় বিশেষজ্ঞ, ডোমেইন এক্সপার্ট, প্যাডাগজি এক্সপার্ট, ফ্যাসিলিটেটর ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Link copied!