মৌলভীবাজার থেকে রাজন হোসেন তৌফিক
প্রকাশিত: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
বৃহস্পতিবার ১৩, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --
সন্দেহভাজন প্রেমিক
সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে একই বাসায় স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মীকে খুনের ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৪ ঘণ্টার মধ্যেই গৃহকর্মীর প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার ( ১২ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে রায়নগরের ১১১ নম্বর বাসার দরজা বন্ধ এবং দরজার নিচ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতর থেকে *আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহকর্মী তাহমিনা (২৫) এর গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত আব্দুস সাত্তার পেশায় ব্যবসায়ী ও চেম্বার অব কমার্সের সদস্য ছিলেন। এই বৃদ্ধ দম্পতির চার সন্তানই থাকেন দেশের বাইরে। দুজন ইংল্যান্ড ও দুজন আমেরিকায়। বাসায় কেবল স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মী থাকতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত গৃহকর্মী তাহমিনার সাথে রাজমিস্ত্রী ১৫ থেকে ২০ দিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের জের ধরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার ৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল সন্দেহভাজন প্রেমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে সে প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ কমিশনার বলেন, বাসার ওয়ারড্রোব ও আলমারি খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। স্বর্ণালঙ্কারসহ দামি জিনিস খোয়া গেছে বলে আমরা জেনেছি। ডাকাতি, পারিবারিক বিরোধ ও সম্পত্তি—তিনটি বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দলিলও উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, তিনজনকেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। তবে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। চারতলার ভাড়াটিয়ারা সকালে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, নিহতের ভাগনে মুন্না মিয়া বলেন, সকাল ৯টার দিকেও মামা-মামির সাথে কথা হয়েছে। ৯ টার পরই তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা। মামির আমেরিকার ভিসা ছিল, কিন্তু মামা দেশের বাইরে যেতে চাননি।
নিহতের এক নারী আত্মীয় ক্ষোভের সাথে বলেন, ৯০ বছরের এই লোকটাকে কেন খুন করা হলো? বৃদ্ধ-বৃদ্ধাও যদি ঘরের ভেতরে নিরাপদ না থাকেন, তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়।
রায়নগরের এক বাসিন্দা বলেন, আব্দুস সাত্তার এলাকার মুরব্বী ছিলেন। তবে সম্প্রতি মদনমোহন কলেজের সামনে তাদের একটি সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ছিল।
ঘটনাটি তদন্তে সিআইডি, পিবিআই ও পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করছে। ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।