গণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মারুফ হাসান
প্রকাশিত: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০২:২২ পিএম
বুধবার ১২, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --
ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট
সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের পাদদেশে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রাণ হারানো শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং শপথবাক্য পাঠের মধ্য দিয়ে বরণ করা হলো গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) জুলাই-২০২৬ সেশনের নবীন শিক্ষার্থীদের।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবীন শিক্ষার্থীদের শপথ বাক্য পাঠ করান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আবুল হোসেন। পরবর্তীতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ মিলনায়তনে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা এবং গবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ নবীন শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষক ও চারপাশের পরিবেশ থেকে শেখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শুধু ভালো চাকরির জন্য নয়, ভালো মানুষ হওয়ার লক্ষ্যেও পড়াশোনা করতে হবে। জীবনে সাফল্যের কোনো শর্টকাট নেই; কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। বইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি সুন্দরভাবে কথা বলার দক্ষতা অর্জন, আত্মবিশ্বাসী হওয়া, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শিক্ষকদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।”
নিজেকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে নবীনদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন,“তোমাদের দায়িত্ব হলো সৎ ভাবে লেখাপড়া করা। বিশ্ববিদ্যালয়ে পাওয়া স্বাধীনতার অপব্যবহার না করে নিয়মিত পড়াশোনা, মাদক থেকে দূরে থাকা, নিজের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন থাকা এবং সামাজিক মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে আমি আশাবাদী।”
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম শফিকুজ্জামান বলেন, “গণ বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় যার প্রতিষ্ঠাতা একজন মহান মানুষ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। শিক্ষার্থীদের তার জীবন দর্শন অনুসরণ করে শিক্ষাজীবনে প্রয়োগ করা উচিত। আজ গণস্বাস্থ্যের আরও ৪৭টি প্রতিষ্ঠান থেকেও নবীনদের বরণ করে নেওয়া হচ্ছে। আগামীতে সকল সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে নিজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের উন্নয়নে শিক্ষার্থীরা নিরলস পরিশ্রম করবে এটিই প্রত্যাশা।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী সিজন পাল বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন এই যাত্রায় পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ গড়ে তুলতে চাই। শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে ভালো মানুষ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যাশা রয়েছে। মাদক ও সব ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে চাই। একই সঙ্গে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও অর্জনকে আরও এগিয়ে নিতে নিজেদের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করি।”
অনুষ্ঠানটির শেষ পর্যায়ে প্রধান অতিথি ড. সালেহউদ্দিন আহমেদকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। অনুষ্ঠানে গবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।