বুধবার ১২, আগস্ট ২০২৬

বুধবার ১২, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির ফেলো ও সহযোগী ফেলো হলেন বাকৃবির দুই অধ্যাপক

বাকৃবি থেকে মো.আবু হানিফ

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির (বাস) ফেলো ও সহযোগী ফেলো হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) দুই অধ্যাপক। তারা হলেন, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ এবং উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কে এম গোলাম দস্তগীর। অধ্যাপক ড. আব্দুল মজিদ ফেলো এবং অধ্যাপক ড. গোলাম দস্তগীর সহযোগী ফেলো হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

বিষয়টি মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নিশ্চিত করেছেন অধ্যাপক ড. মো. কে এম গোলাম দস্তগীর। এর আগে গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তারা দুজনই বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ বাকৃবির সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক। সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা, ভূগর্ভস্থ পানি এবং কৃষিতে পানির ব্যবহার তাঁর গবেষণার উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রোফাইল অনুযায়ী, তাঁর নামে ৯৮টি গবেষণা ও ১৮৬টি প্রকাশনার তথ্য রয়েছে। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব নিউক্যাসল থেকে পিএইচডি এবং জাপান ও জার্মানিতে পোস্টডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেছেন।

গবেষণাসহ একাডেমিক জীবনে বিভিন্ন স্বীকৃতিও পেয়েছেন অধ্যাপক আব্দুল মজিদ। ১৯৯৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম স্থান অর্জনের জন্য ইউনিভার্সিটি প্রাইজ এবং চূড়ান্ত বর্ষের সেরা শিক্ষার্থী হিসেবে রামাপতিনাথ মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড পান তিনি। ২০০৯ সালে কৃষিবিজ্ঞানে মৌলিক গবেষণার জন্য ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।

অন্যদিকে অধ্যাপক ড. মো. কে এম গোলাম দস্তগীর বাকৃবির উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক। উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব, প্ল্যান্ট-মাইক্রোব ইন্টারঅ্যাকশন ও প্ল্যান্ট মাইক্রোবায়োম তাঁর গবেষণার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। তাঁর ৩৬টি গবেষণা প্রকাশনা রয়েছে। গুগল স্কলার অনুযায়ী, এসব গবেষণাপত্রে প্রায় ১ হাজার ৯০০টি সাইটেশন রয়েছে। তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে পিএইচডি এবং জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রে পোস্টডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেছেন।

গবেষণায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্বীকৃতি পেয়েছেন অধ্যাপক গোলাম দস্তগীর। ২০১০ সালে অধ্যাপক করিম মেমোরিয়াল ট্রাস্ট গোল্ড মেডেল এবং ড. এস ডি চৌধুরী গোল্ড মেডেল, ২০১১ সালে ইউনিভার্সিটি প্রাইজ ও ইউনিভার্সিটি গোল্ড মেডেল এবং ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক অর্জন করেন তিনি। ২০১৩ সালে বেগম শিতাবজুন মেমোরিয়াল ট্রাস্ট অ্যাওয়ার্ড ও উদ্ভিদ রোগতত্ত্বে ইউনিভার্সিটি গোল্ড মেডেল পান। এছাড়া ২০১৪ সালে প্ল্যান্ট ভাইরোলজিতে স্কলারশিপ ফর ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ ফিস, ২০১৬ সালে প্ল্যান্ট-মাইক্রোব ইন্টারঅ্যাকশনে কনফারেন্স অ্যাওয়ার্ড এবং ২০১৯ সালে বেস্ট পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড, আইএস-এমপিএমআই আর্লি ক্যারিয়ার রিসার্চার ট্রাভেল অ্যাওয়ার্ড ও মিট্যাকস অ্যাক্সেলারেট প্রোগ্রাম পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপ অর্জন করেন। ২০২১ সালে রিভিউ ক্যাটাগরিতে বেস্ট পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ডও পান তিনি।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. কে এম গোলাম দস্তগীর বলেন, এটি অবশ্যই আমার জন্য একটি চমৎকার অনুভূতি। আমি বিভিন্ন সময় একাডেমিক সাফল্য পেয়েছি। এর আগে ছাত্র জীবনে এবং শিক্ষকতায় বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে পুরস্কার পেয়েছি। সর্বশেষ যুক্ত হলো বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমিতে এসোসিয়েট ফেলো হিসেবে কাজ করা। এটিকে আমি ঠিক অ্যাওয়ার্ড বলবো না, এটি একটি ফেলোশিপ, একটি টিমের সাথে কাজ করা। এটি একটি দায়িত্বেরও বিষয়।

তিনি আরও বলেন, যে জায়গাটি আমি অর্জন করেছি সেটি যেন ধরে রাখতে পারি এবং সামনে বাংলাদেশের বিজ্ঞান এবং গবেষণার ধারাটাকে যেন অব্যাহত রাখি। আশা করি সবার সহযোগিতা এবং দোয়ায় সামনের দিকে এগিয়ে যাব।

Link copied!