প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:২৩ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সময় শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা পার্ট-টাইম কর্মসূচি নতুন প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের পর বন্ধ হয়ে গেছে। এতে একদিকে যেমন অনেক শিক্ষার্থী আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হারিয়েছেন, অন্যদিকে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, দায়িত্ব পালনে অনিয়ম ও বাজেটসংকটের কারণেই আপাতত কর্মসূচিটি স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কর্মসূচিটির আওতায় বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়টি প্রবেশপথে বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্যরা চেকপোস্ট পরিচালনা করতেন। এর মাধ্যমে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হতো। দায়িত্ব পালনের জন্য শিক্ষার্থীদের সম্মানীও দেওয়া হতো, যা অনেকের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহে সহায়ক ছিল।
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া ইয়াসমিন বলেন, প্রতি দুই ঘণ্টা দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁরা ৮০ টাকা করে সম্মানী পেতেন। এই অর্থ তাঁদের ব্যক্তিগত খরচ চালাতে সহায়তা করত। কর্মসূচি বন্ধ হওয়ার পর আর্থিক সংকট বেড়েছে। তাঁর দাবি, চেকপোস্ট চালু থাকাকালে বহিরাগতদের প্রবেশ অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত ছিল। এখন নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের চলাচল বেড়েছে, যা নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়।
আরেক শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে টিউশনি পাওয়া তুলনামূলক কঠিন। এ কারণে এই পার্ট-টাইম কাজ অনেক শিক্ষার্থীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস ছিল। কর্মসূচি বন্ধ হওয়ায় নিম্নআয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা বেশি সমস্যায় পড়েছেন।
বিএনসিসির সেনা শাখার ক্যাডেট আন্ডার অফিসার তানভীর আহমেদ হামজা বলেন, নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর কর্মসূচিটি বন্ধ করা হয়। পরে প্রক্টরের সঙ্গে বৈঠকে তাঁদের জানানো হয়, সম্মানী-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আপাতত এটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিএনসিসির বিমান শাখার কর্মকর্তা মো. নাসিম উদ্দিন বলেন, "বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও কমিউনিটি পুলিশিং-এই তিন সংগঠনের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটগুলোতে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতেন। নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ করতে গিয়ে কোনো সংগঠন দায়িত্বে অবহেলা করেছে-এমন কোনো অভিযোগ প্রক্টর অফিস থেকে আমাদের কখনো জানানো হয়নি। সর্বশেষ প্রক্টর আমাদের সঙ্গে বৈঠকে বলেছিলেন, নতুন প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিলেই আবার ডিউটি শুরু হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।"
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, "বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্যদের মধ্যে আমি কিছুটা মোটিভেশনের ঘাটতি লক্ষ্য করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৯টি গেট রয়েছে। দেখা গেছে, তারা তিন-চারটি গেটে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করলেও বাকি গেটগুলোতে একইভাবে দায়িত্ব পালন করছে না। এ বিষয়টি আমরা তাদের জানিয়েছি। এছাড়া বাজেটেরও কিছুটা সংকট রয়েছে। বিগত প্রশাসন বিভিন্ন খাত থেকে এই খাতে বরাদ্দ দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো সে ধরনের কোনো বরাদ্দের বিষয়ে আমাদের জানানো হয়নি। তবে বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্যরা যদি নিয়মিত ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করেন, তাহলে এই সামান্য বাজেটের কারণে প্রশাসন কর্মসূচিটি আটকে রাখবে বলে আমি মনে করি না। এই কার্যক্রম চালু হলে প্রক্টরিয়াল বডির জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা অনেক সহজ হবে। আশা করছি, সামনের দিনগুলোতে কর্মসূচিটি আবার চালু হবে।"
রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, "গত বৈঠকে আমরা এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। এখানে বিএনসিসির সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দোষারোপ করছেন, আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডিও বিএনসিসির সদস্যদের দোষারোপ করছে। আমরা একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করে প্রশাসনের কাছে দিয়েছি। সেটি আগামী সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদন পেলে পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটগুলোতে চেকপোস্ট চালু করা হবে। ইতোমধ্যে চেকপোস্ট বন্ধ থাকায় গত কয়েক দিনে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা পরিস্থিতিরও অবনতি হয়েছে।"
পার্ট-টাইম কর্মসূচি বন্ধ হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের একাংশ মনে করছেন, এটি পুনরায় চালু হলে যেমন আর্থিকভাবে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন, তেমনি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও কার্যকর হবে।
