প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:১২ পিএম
"আম্মু, শেখ হাসিনা পালাইছে, শেখ হাসিনা পালাইছে।" এটাই ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হামিদুর রহমান মজুমদার সাদমানের মায়ের সঙ্গে তার শেষ ফোনালাপ। বিজয়ের উচ্ছ্বাসে করা সেই ফোনকলের কিছুক্ষণ পরই রাজধানীর বংশাল থানার সামনে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান তিনি।
রোববার (১২ জুলাই) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ‘প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় ছেলে হারানোর সেই বিভীষিকাময় দিনের স্মৃতিচারণ করেন সাদমানের মা কাজী শারমিন আক্তার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। মুখ্য আলোচক হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘প্রতিরোধ দিবস’ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার।
তিনি বলেন, "আমার ছেলে হামিদুর রহমান মজুমদার সাদমান কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার দীঘলগাঁও গ্রামের ছেলে। সে সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। ইন্টার্নশিপের জন্য ঢাকায় গিয়েছিল। পরে কুমিল্লায় ফিরে এলেও 'লং মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচির ডাক পেয়ে আবার ঢাকায় চলে যায়। আমরা অনেক নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু সে বলেছিল, 'আম্মু, আপনি তো আন্দোলনে যান, আমাকে কেন মানা করছেন?'"
কাজী শারমিন আক্তার বলেন, "৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার খবর জানিয়ে ছেলে আমাকে ফোন করেছিল। খুব আনন্দের সঙ্গে বলছিল, 'আম্মু, শেখ হাসিনা পালাইছে।' এরপর বন্ধুদের সঙ্গে গণভবনের উদ্দেশে রওনা দেয়। কিন্তু বংশাল থানার সামনে পৌঁছালে পুলিশের ছোড়া একটি গুলি তার বুকের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। সেই গুলিতেই আমার সন্তান শহীদ হয়।"
তিনি আরও বলেন, "আমার ছেলের সঙ্গে তার বন্ধুরা ছিল বলেই আমরা দ্রুত তার খোঁজ পেয়েছি। তারা না থাকলে হয়তো আজও আমার সন্তানের লাশ খুঁজে বেড়াতাম। অনেক পরিবার এখনো তাদের স্বজনকে খুঁজে ফিরছে। আমি চাই, এ দেশে আর কখনো এমন অন্যায় না হোক। সবাই আমার সন্তানের জন্য দোয়া করবেন।"
উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর বংশাল থানার সামনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন হামিদুর রহমান মজুমদার সাদমান। তিনি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার দীঘলগাঁও গ্রামের বাসিন্দা এবং সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
