রবিবার ১২, জুলাই ২০২৬

রবিবার ১২, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

কুবিতে 'প্রতিরোধ দিবস' পালন, সম্মাননা পেলেন আহত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা

কুবি থেকে আহসান হাবিব রাফি

প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও আন্দোলনে সহায়তাকারীদের সম্মাননা দিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিরোধ দিবস পালন করা হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তারিন বিনতে এনাম ও আইসিটি বিভাগের প্রভাষক মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় কোরআন তিলাওয়াত, গীতা পাঠ এবং জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আহত ৩৫ জন শিক্ষার্থী, পাঁচজন সাংবাদিক, আন্দোলনে সহায়তাকারী আটজন স্থানীয় ব্যক্তি এবং অংশগ্রহণকারী আরও ২১ জন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

প্রতিরোধ দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলাইমান। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম, বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে কোষাধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, “ইতিহাসে অন্যায়, বৈষম্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিটি আন্দোলনে ছাত্রসমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। রাষ্ট্র গঠনের দায়িত্ব আমাদের সবার। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ন্যায় ও মানবতার মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং আগামী প্রজন্ম গর্ব করে এ দেশকে নিজেদের বলতে পারবে। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের নীতিনির্ধারক।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, “২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। এই দিনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাহস, আত্মত্যাগ ও দৃঢ়তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। ইতিহাস শুধু আমাদের অতীতের কথা মনে করিয়ে দেয় না, ইতিহাস আমাদের ভবিষ্যতের পথও দেখায়। প্রতিরোধের প্রকৃত শিক্ষা হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী হওয়া, প্রতিহত করা, সত্যের পথে অবিচল থাকা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, “প্রশাসনের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সিন্ডিকেটেই ১১ জুলাইকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যালেন্ডারে 'প্রতিবাদ দিবস' হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছি। আমি আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় যুগ যুগ ধরে এ দিনটিকে ধারণ করবে। আমাদের শিক্ষার্থীরা শান্ত ও নম্র হলেও সময়ের প্রয়োজনে প্রতিবাদী, প্রতিরোধী এবং বিজয়ী। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে তারা প্রমাণ করেছে, দায়িত্ব পালনের সময় এলে তারা সাহসিকতার সঙ্গে নিজেদের ভূমিকা রাখতে সক্ষম।”

অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, “প্রতিরোধ দিবসের সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রশাসনের সদস্য, শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে আমি আন্তরিক সম্মান জানাই। তাদের সম্মিলিত অংশগ্রহণই এই আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছে। ১১ জুলাইয়ের আন্দোলনের সূচনার কারণের পাশাপাশি কেন এ দিনটিকে প্রতিরোধ দিবস হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও বলেন, “এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল ছাত্রসমাজের সাহস, ঐক্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান। সেই সময় মায়েদের সাহসী উপস্থিতি, ভাইদের ছাত্রীদের সুরক্ষায় মানবপ্রাচীর গড়ে তোলা এবং সবার পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সম্প্রীতির বন্ধনই এই প্রতিরোধকে সফল করে তুলেছিল।”

অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, “১১ জুলাই ‘প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি সফল করতে সহযোগিতা করা সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে মুখ্য আলোচক, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, ডিনবৃন্দ, শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারী এবং অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত পুলিশি হামলার প্রতিবাদ এবং তাদের ঐতিহাসিক প্রতিরোধকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিন্ডিকেটের ১১০তম সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে ১১ জুলাইকে প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।

Link copied!