বুধবার ২৫, মার্চ ২০২৬

বুধবার ২৫, মার্চ ২০২৬ -- : -- --

অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় কড়াকড়ি

আফিয়া জিনিয়া

প্রকাশিত: ১৯ মার্চ ২০২৬, ১১:৪০ পিএম

ফাইল ফটো

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন থেকে ভিসা পেতে হলে আবেদনকারীদের ‘জেনুইন স্টুডেন্ট (GS)’ শর্ত পূরণ করতে হবে, যা মূলত যাচাই করে একজন শিক্ষার্থী সত্যিই পড়াশোনার উদ্দেশ্যে দেশটিতে যেতে চান কি না। ২০২৪ সালের ২৩ মার্চ বা তার পর জমা দেওয়া সব ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এর আগে ‘জেনুইন টেম্পোরারি এন্ট্রান্স (GTE)’ নীতির ভিত্তিতে আবেদন মূল্যায়ন করা হতো।

নতুন এই GS শর্ত অনুযায়ী, আবেদনকারীকে পরিষ্কারভাবে দেখাতে হবে যে তার মূল লক্ষ্য পড়াশোনা। শুধু ইচ্ছা প্রকাশ করলেই হবে না, বরং তাকে প্রমাণসহ দেখাতে হবে কেন তিনি নির্দিষ্ট কোর্স ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেছে নিয়েছেন এবং এটি তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে কীভাবে সহায়ক হবে।

ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবেদন ফরমের মধ্যেই GS সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রতিটি উত্তরের জন্য সর্বোচ্চ ১৫০ শব্দের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সব উত্তর ইংরেজিতে লিখতে হবে। এতে আবেদনকারীর পরিকল্পনা, প্রস্তুতি এবং উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।

এছাড়া আবেদন মূল্যায়নের সময় আবেদনকারীর পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা, পূর্ববর্তী শিক্ষা ও চাকরির অভিজ্ঞতা, এবং নিজ দেশের সঙ্গে সম্পর্ক কতটা দৃঢ়—এসব বিষয় গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে। শুধু কথার ওপর নির্ভর না করে, এসব দাবির পক্ষে প্রমাণপত্র জমা দেওয়াও বাধ্যতামূলক।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কেউ যদি পড়াশোনা শেষে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করে থাকেন, তা GS মূল্যায়নে নেতিবাচক হিসেবে ধরা হবে না। বরং দেশটির প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে স্থায়ী হওয়ার সুযোগও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া সরকার ভিসা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াতে চায় এবং নিশ্চিত করতে চায়, শুধুমাত্র প্রকৃত শিক্ষার্থীরাই সেখানে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

Link copied!