প্রকাশিত: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১০ পিএম
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সামাজিক উদ্যোক্তা তৈরির বিশ্বখ্যাত প্রতিযোগিতা ‘হাল্ট প্রাইজ’ অন-ক্যাম্পাস পর্ব- হাল্ট প্রাইজ অ্যাট খুলনা ইউনিভার্সিটি-এর গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ০৬ ফেব্রুয়ারি দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের মেধাবী শিক্ষার্থীরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপন করে।
দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে এবং এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্টে মনোযোগী হতে হবে। টেকসই উন্নয়নের জন্য নতুন ও বাস্তবভিত্তিক আইডিয়া তৈরির পাশাপাশি সফট স্কিল দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি অন্যান্য ভাষা শেখার আগ্রহ থাকতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক পরিসরে যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। নেতৃত্বগুণ ও কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর প্রযুক্তি দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে এসব প্রযুক্তি সম্পর্কে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে এবং সময়োপযোগী ধারণা দিতে হবে।
এসডিজি সম্পর্কে সবার সম্যক ধারণা থাকা প্রয়োজন উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, বৈশ্বিক টেকসই শক্তি বজায় রাখতে হলে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আমাদের অধিকার ও অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আমরা দায়ী নই, এই বাস্তবতা বিশ্বদরবারে তুলে ধরা জরুরি।
শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে সচেতনতা কার্যক্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি এ ধরনের কর্মসূচিতে সহযোগিতার জন্য প্রাইম ব্যাংককে ধন্যবাদ জানান।
গ্র্যান্ড ফিনালের চূড়ান্ত পর্বে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী, মার্চেন্ট ডেভেলপমেন্ট কমার্শিয়াল ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার ও সার্কেল হেড অনিন্দ্য কুমার পাল, সিটি ব্যাংক খুলনা শাখার এরিয়া হেড ও ব্রাঞ্চ ম্যানেজার হিমাদ্রি শেখর হোর এবং স্টার্টআপ গ্রাইন্ডের চ্যাপ্টার ডিরেক্টর সুমন সাহা।
চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা শেষে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নির্বাচিত হয় ‘স্মার্ট হুইলচেয়ার’ প্রকল্প। এই উদ্ভাবনী প্রকল্পটি পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও অঙ্গহানিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য স্বল্পমূল্যের আধুনিক হাই-টেক হুইলচেয়ার তৈরি করার লক্ষ্যে কাজ করছে, যা ব্যবহারকারীকে দৈনন্দিন চলাচলে অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত করবে।
১ম রানার-আপ হয় টিম প্লাজমা, যারা সামুদ্রিক শৈবাল থেকে ক্যারাজিনান ও সোডিয়াম অ্যালজিনেট উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব বায়ো-ফার্টিলাইজার ও শিল্প-উপযোগী উপাদান তৈরি করছে। দলটি ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেশন হাব থেকে ৪০ হাজার টাকা তহবিল পেয়েছে এবং আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।
২য় রানার-আপ হয় অ্যাকোয়াজেনিক্স, যারা বাংলাদেশের উপকূলীয় ও গ্রামীণ অঞ্চলের নিরাপদ পানির সংকট মোকাবিলায় জুট-ভিত্তিক ফিল্টার ব্যবহার করে লবণাক্ততা, ভারী ধাতু ও ব্যাকটেরিয়া দূর করার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছে। দলটি স্বল্পমূল্যে আর্সেনিক অপসারণ প্রযুক্তি উন্নয়নেও কাজ করছে।
অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী দলগুলোর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথি ও বিচারকরা। বিজয়ী দলগুলো এখন তাদের উদ্ভাবনী আইডিয়া নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হাল্ট প্রাইজ প্রতিযোগিতার পরবর্তী ধাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
