প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৫ এএম
খাবারে একটু বেশি লবন না হলে অনেকেরই খেতে ভালো লাগে না। আবার চিপস, চানাচুর, আচার কিংবা প্রক্রিয়াজাত খাবারের মাধ্যমেও প্রতিদিন শরীরে প্রবেশ করছে অতিরিক্ত সোডিয়াম। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস চলতে থাকলে বাড়তে পারে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি। এ ঝুঁকি কমাতে খাবারে সোডিয়ামের পরিমাণ কমানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার বেশ কয়েক ধরণের খাবার।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। রক্তচাপ বেড়ে গেলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ে। শুধু রান্নায় দেওয়া লবন নয়, প্যাকেটজাত খাবার, প্রক্রিয়াজাত মাংস, সস, স্যুপ ও বিভিন্ন মুখরোচক খাবার থেকেও শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম প্রবেশ করতে পারে।
প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন ২ হাজার মিলিগ্রামের কম সোডিয়াম গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে। রান্নার লবনের হিসাবে এর পরিমাণ ৫ গ্রামের কম, অর্থাৎ প্রায় এক চা-চামচের চেয়েও কম। এই হিসাবের মধ্যে রান্নায় ও খাবারের সঙ্গে আলাদাভাবে গ্রহণ করা সব নুনই অন্তর্ভুক্ত।
তবে শুধু লবন কমানোই নয়, খাবারে পটাশিয়ামের পর্যাপ্ত উপস্থিতিও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। পটাশিয়াম এমন একটি প্রয়োজনীয় খনিজ, যা শরীরের তরলের ভারসাম্য, স্নায়ুর সংকেত আদান-প্রদান এবং পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি শরীর থেকে প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করে দিতেও ভূমিকা রাখে এই খনিজ। রক্তনালির দেয়াল শিথিল রাখার মাধ্যমেও রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে পটাশিয়াম।
কতটুকু পটাশিয়াম প্রয়োজন?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন খাবার থেকে অন্তত ৩ হাজার ৫১০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে। তবে বয়স, শারীরিক অবস্থা ও স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যক্তিভেদে চাহিদা ভিন্ন হতে পারে।
প্রতিদিনের খাবারেই মিলবে পটাশিয়াম:
পটাশিয়ামের চাহিদা পূরণ করতে বিশেষ কোনো দামি খাবারের প্রয়োজন নেই। পরিচিত অনেক খাবারেই রয়েছে এই খনিজ। কলা, কমলালেবু, পেঁপে, আলু, মিষ্টি আলু, টমেটো, পালংশাক, ডাল, মটরশুঁটি, বিভিন্ন ধরনের বিনস, বাদাম, দুধ ও টক দই পটাশিয়ামের ভালো উৎস।
বিশেষ করে ফলমূল, শাকসবজি ও ডালজাতীয় খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে পটাশিয়াম গ্রহণ বাড়ানো সম্ভব। তবে শুধু একটি বা দুটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই ভালো।
পটাশিয়ামের ঘাটতি হলে কী হতে পারে?
শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে ক্লান্তি, পেশির দুর্বলতা, পেশিতে টান, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং হৃদ্স্পন্দনে অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে। গুরুতর ঘাটতি হৃদ্যন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই পটাশিয়ামের ঘাটতি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হয়। তাই কিডনির সমস্যা থাকলে বা নিয়মিত ওষুধ খেলে ডায়েটে বড় পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
কিডনির রোগীদের জরুরি সতর্কতা:
পটাশিয়াম শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও সবার ক্ষেত্রে বেশি পটাশিয়াম গ্রহণ নিরাপদ নয়। কিডনি ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পটাশিয়াম বের হতে সমস্যা হয়। ফলে রক্তে এই খনিজের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধও রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বাড়াতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের (এমআইএইচ) তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে সাধারণ পরিমাণের পটাশিয়াম গ্রহণেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট কিংবা পটাশিয়ামযুক্ত বিকল্প নুন ব্যবহার করা উচিত নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পটাশিয়াম বাড়ানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত নুন খাওয়ার অভ্যাসও কমাতে হবে। খাবারে বাড়তি লবন না নেওয়া, প্যাকেটজাত ও অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার সীমিত করা এবং নিয়মিত ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস হার্ট ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।
