রাশেদুজ্জামান রাশেদ,জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম
মঙ্গলবার ২৭, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --
সংগৃহীত
সাধারণ শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ, বয়কটের ডাক এবং ছাত্রসংগঠনগুলোর জোরালো দাবির মুখে অবশেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি ১,৫০০ টাকা কমিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস ফিরে এসেছে।
এর আগে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের সম্মতি অনুযায়ী আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর দুই দশকে মাত্র দুটি সমাবর্তন আয়োজন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে আগে থেকেই দীর্ঘদিনের হতাশা ও আক্ষেপ বিরাজ করছিল। এর মধ্যেই সমাবর্তনের অতিরিক্ত ফি নির্ধারণ করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্র্যাজুয়েটরা।
অতিরিক্ত ফি নির্ধারণের প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ক্যাম্পাসে সমাবর্তন বয়কটের ডাক দেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় শাখা ছাত্রদল, জকসু এবং বাংলাদেশ ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ফি কমানোর জন্য উপাচার্যের কাছে জোর দাবি ও দেনদরবার জানান। তীব্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ক্যাটাগরিতেই সমাবর্তন ফি ১,৫০০ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ছাত্রনেতারা।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, "সমাবর্তন কোনো বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, এটি একজন শিক্ষার্থীর আজীবনের সাধনা ও শিক্ষাজীবনের সর্বোচ্চ উৎসব। সেখানে অযৌক্তিক ফি নির্ধারণ করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উৎসবকে সংকুচিত করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো ছিল না। ছাত্রদল সবসময় শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির পক্ষে ছিল এবং থাকবে। প্রশাসনের এই শিক্ষার্থী বান্ধব সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই।"
এছাড়া সকল ব্যাচ,জন্য যারা গত সমাব্যার্তনে রেজিস্ট্রেশন করতে পারেনি তাদেরকে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার দাবীও জানান ছাত্রদলের আহবায়ক মেহেদী হাসান হিমেল।
জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "দুই দশকে মাত্র দুটি সমাবর্তন পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য একদিকে যেমন আনন্দের, অন্যদিকে অতিরিক্ত ফি ছিল এক ধরনের মানসিক ও আর্থিক নিপীড়ন। প্রশাসন ফি কমানোয় সাধারণ গ্র্যাজুয়েটদের অংশগ্রহণ এখন বহুলাংশে বাড়বে।"
এছাড়া ১ম সমাবর্তনের ফি যেটা ছিল সেটা থেকে বেশি না বাড়ানোর দাবি ১ম থেকে থেকেই করে আসছিলেন জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ। বাংলাদেশ ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহীন মিয়া বলেন, "শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত আন্দোলন ও বয়কটের ঘোষণার কারণেই আজ প্রশাসন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে ছাত্রশক্তি অগ্রভাগে থেকে ভূমিকা পালন করেছে। আমরা চাই কোনো ধরনের বৈষম্য ও বাধা ছাড়াই আগামী ৩০ জানুয়ারির দ্বিতীয় সমাবর্তন একটি সফল ও স্মরণীয় মিলনমেলায় পরিণত হোক।"
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফি সংশোধনের পর এখন পুরোদমে সমাবর্তন সফল করার প্রস্তুতি চলছে। খুব দ্রুত সংশোধিত ফি ও সময়সীমা অনুযায়ী অনলাইন রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে।