প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা আরজুমান্দ বানুর পদত্যাগের দাবিতে বিভাগে তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীদের একাংশ। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত আবেদনও দিয়েছেন তারা।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্থাপত্য বিভাগের অফিসে তালা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর আগে দুপুর ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্মের কাছে চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবি তুলে লিখিত আবেদন জমা দেন তারা।
আবেদনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ, বিভাগীয় বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি এবং একাডেমিক কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতার অভিযোগও তোলা হয়।
শিক্ষার্থীদের আবেদনে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি)-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া, একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অদক্ষতা এবং বিভাগীয় সমস্যাগুলো বিভাগীয় পর্যায়ে সমাধানে ব্যর্থতার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক ও অগ্রহণযোগ্য আচরণ, একাডেমিক মূল্যায়ন ও মার্কিং ব্যবস্থায় অসামঞ্জস্য এবং স্টুডেন্ট ফান্ড ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতির অভিযোগও করেছেন তারা।
অভিযোগের তালিকায় আরও রয়েছে—আর্কিটেকচার স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে অসহযোগিতা, সেমিস্টার প্রজেক্ট ও একাডেমিক কার্যক্রমে সমন্বয়ের অভাব, কেন্দ্রীয় রুটিনে শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত না করা, সেশনজট এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও সমস্যা সমাধানে দীর্ঘসূত্রতা।
এসব সমস্যা সমাধানে লিখিত আবেদনে স্টুডেন্ট ফান্ড ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক স্বার্থে স্টুডেন্ট ফান্ড ও আইএবি-সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, একাডেমিক জটিলতা ও সেশনজট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা এবং একজন যোগ্য, দায়িত্বশীল, জবাবদিহিমূলক ও শিক্ষার্থীবান্ধব চেয়ারম্যান নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
স্টুডেন্ট ফান্ডের বিষয়ে শিক্ষার্থী ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘আর্কিটেকচার স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ফান্ডে সর্বমোট প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা জমা হয়েছে। এই টাকা কোথায়, কখন এবং কোন খাতে খরচ হয়েছে, তা আমাদের জানানো হয়নি। বর্তমানে সমিতির অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই।’
তবে বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী আন্দোলনটির পেছনে উদ্দেশ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, বিভাগের শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ছে। তাদের দাবি, অতীতে শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে কয়েকটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষ করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে।
ওই শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সব সময় পিছিয়ে আছে। বিভাগের শিক্ষকদের এই অন্তঃকোন্দলের কারণে আমাদের আগের ব্যাচগুলোর পড়াশোনা শেষ করতে আট বছর পর্যন্ত সময় লেগেছে। বিভাগের নামে যেসব সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো আমাদের কাছে বাস্তবসম্মত মনে হয়নি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই আন্দোলন করানো হচ্ছে।’
স্টুডেন্ট ফান্ডের ব্যাংক হিসাব নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে জনতা ব্যাংকের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষার্থীরা যে ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাচ্ছেন, সেখানে লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য দেখা যাচ্ছে না। ওই কর্মকর্তা জানান, ব্যাংক স্টেটমেন্ট থেকে লেনদেনের তথ্য মুছে দেওয়া হয়েছে। তবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লেনদেন সচল রয়েছে এবং অ্যাকাউন্টে টাকা রয়েছে।
অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত অভিযোগকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা আরজুমান্দ বানু। তিনি এসব অভিযোগকে ‘বানোয়াট’ ও ‘চক্রান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শিক্ষার্থীদের কেউ আমার কাছে এসে বলেনি যে, ম্যাম, সমিতির টাকার হিসাব দিতে হবে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট তাদের হাতে যাওয়ার কথা নয়। তারা যেটা দেখাচ্ছে, সেটা সম্পূর্ণ বানোয়াট।’
