বৃহস্পতিবার ০৬, আগস্ট ২০২৬

বৃহস্পতিবার ০৬, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভা

গণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মারুফ হাসান

প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর ২টায় সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লকের ৪১৭ নম্বর কনফারেন্স রুমে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী, কেন্দীয় ছাত্র সংসদ গকসু'র প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠান জাতীয় সঙ্গীত ও জুলাইের প্রমান্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে আরম্ভ হয়। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি ও বৌদ্ধ অধ্যয়ন বিভাগের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন গবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন। 

আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তাওহিদ আহমেদ সালেহীন বলেন, ‘বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের যে লড়াই আজও চলমান রয়েছে, তারই একটি অংশ ছিলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান। ফ্যাসিবাদি রাষ্ট্রব্যাবস্থার পতন ঘটাতে ছাত্র জনতার পক্ষে সমাজের সকল শ্রেণী পেশার মানুষ নেমে এসেছিলো রাজপথে, সামাজিক ন্যায়বিচারে তাদের হিস্যা বুঝে নিতে।  কিন্তু রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ট স্বৈরাচার তা বুঝিয়ে দিতে ছিলো নারাজ, ফলাফল জনমনে ক্ষোভ আর আক্রোশের উৎপত্তি থেকে ফ্যাসিবাদের পতন।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধান আলোচক ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, বৈষম্য ও অধিকারহীনতা দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। জুলাইয়ের চেতনা হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি; দীর্ঘ সংগ্রাম, ইতিহাস ও জনগণের না-পাওয়ার বেদনা রয়েছে থেকে এই চেতনার জন্ম। মহান মুক্তিযুদ্ধ যেমন স্বাধীনতা, সাম্য ও মর্যাদার শিক্ষা দিয়েছে, তেমনি জুলাই অভ্যুত্থান বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ার নতুন প্রত্যয় সৃষ্টি করেছে।’

তিনি পুলিশ, প্রশাসন, আইন ও বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান সংস্কার করে জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত আন্দোলনকারীদের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নেওয়ার দাবি জানান।

জুলাই আন্দোলনে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ও তৎকালীন পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কোটা আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে রাজপথ দখল করে। আন্দোলনে অংশ নেওয়ার প্রথম দিনেই আশুলিয়া থানার ওসি আমাকে ফোন করে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানোর হুমকি দিয়েছিল। তবুও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যায় এবং সাহসের সঙ্গে রাজপথে অবস্থান করে।’

তিনি আরও বলেন,‘জুলাইয়ের চেতনা ছিল একটি বৈষম্যহীন দেশ গড়ে তোলা।এই প্রেরণা আমরা পেয়েছিলাম ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কাছে। দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বেঁচে থাকলে তা জাতির জন্য বড় প্রাপ্তি হতো।’ 

Link copied!