প্রকাশিত: ২০ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
ব্রাজিলে ১২ কোটি বছর পুরনো এক নতুন ডাইনোসরের জীবাশ্ম আবিষ্কার করা হয়েছে, যা প্রাচীন পৃথিবীর মানচিত্র এবং মহাদেশগুলোর সংযোগের ধারণা পাল্টে দিতে পারে। এই জীবাশ্মটি দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা এবং ইউরোপের প্রাচীন স্থলপথের প্রমাণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রাজিলের মারানহাও অঙ্গরাজ্যের টোকানটিনস নদীর তীরে এই জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। গবেষকরা এটিকে “ডাসোসরাস টোকানটিনেনসিস” নাম দিয়েছেন। এটি একটি বিশাল সরোপড প্রজাতি, যার দীর্ঘ ঘাড় এবং বিশাল দেহের জন্য পরিচিত। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, এই ডাইনোসরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ মিটার। খননের সময় ১.৫ মিটার দীর্ঘ ফিমার (উরুর হাড়) পাওয়া গেছে, যা প্রাণীর ভয়াবহ আকারের প্রমাণ দেয়।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, ব্রাজিলে পাওয়া এই প্রজাতির সাথে স্পেনের গারুম্বাটিটান মোরেলেনসিস প্রজাতির বিবর্তনীয় মিল। মেরুদণ্ড এবং উরুর হাড়ের গঠন দেখেই বোঝা যায়, দুই প্রজাতি একই বংশধারার। গবেষকরা মনে করছেন, এই মিল নির্দেশ করছে যে দক্ষিণ আমেরিকা এবং ইউরোপের প্রাণীরা একসময় স্থলপথে সংযুক্ত ছিল। তারা সম্ভবত ইউরোপ থেকে আফ্রিকা হয়ে দক্ষিণ আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়েছিল।
ক্রিটেশিয়াস যুগের শুরুতে, প্রায় ১২-১৩ কোটি বছর আগে, পৃথিবীর ভৌগোলিক অবস্থার কারণে দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকা আংশিকভাবে সংযুক্ত ছিল। উত্তর আফ্রিকা এবং দক্ষিণ ইউরোপের মধ্যেও স্থলপথ ছিল। বিশাল সরোপডরা এই স্থলপথে প্রজন্মের পর প্রজন্ম মাইগ্রেশন করত। পরে, টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার কারণে আটলান্টিক মহাসাগর প্রশস্ত হয়ে গেলে এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এই নতুন ডাইনোসরের আবিষ্কার কেবল নতুন প্রজাতির শনাক্তকরণ নয়, এটি প্রাচীন মহাদেশগুলোর সংযোগ এবং ডাইনোসরের পরিভ্রমণ ইতিহাস বোঝাতেও গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাঞ্চলে একসময় বিশাল তৃণভোজী ডাইনোসরের বিচরণভূমি ছিল—এখন তার প্রমাণ এই জীবাশ্ম।
