প্রকাশিত: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২১ পিএম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত ছাত্র সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ৩২টি ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সোলায়মান এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন, বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান এবং ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ। সভায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. নাহিদা বেগম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, 'আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করছি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কয়েকটি বিভাগে শিক্ষক সংকট, ক্যাফেটেরিয়া সংকট, বাস সংকট এবং সেশন জটসহ নানা সমস্যা বিদ্যমান ছিল। এসব সংকট নিরসনে আমরা ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধশীল করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ কাজে আপনাদের সবার সহযোগিতা কাম্য।'
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনই ক্যাম্পাসের প্রাণ। এসব সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাণবন্ত ও গতিশীল করে তোলে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও একাডেমিক সার্বিক উন্নয়নের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবার আমরা সর্বোচ্চ মানের শিক্ষক নিয়োগ দিতে সক্ষম হয়েছি। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও নতুন ক্যাম্পাস চালুর লক্ষ্যে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের নান্দনিক নামফলক পুন:স্থাপনে আমরা সক্ষম হয়েছি। জুলাই যোদ্ধাদের সাথে কথা বলেছি, আহত যোদ্ধাদের সাথে কথা বলে তাদের সম্মানী দেয়ার চেষ্টা করেছি, একাডেমিক খরচগুলো মওকুফ করেছি এবং তাদের চিকিৎসার কল্যাণে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠনগুলোকে নিজস্ব রিসোর্স থেকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি সংগঠন কার্যক্রম ও ক্যাম্পাস জীবনকে আরও প্রাণবন্ত করতে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরকে আরও সক্রিয় করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের কল্যাণে শহরে যাতায়াতের জন্য সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও আমরা বাস সার্ভিস চালু করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু করেছি। ১৩ জন ছাত্র-ছাত্রী আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। সামনে আরেকটি সার্কুলার হবে। প্রতি বছর আমরা দুইবার পিএইচডি প্রোগ্রামে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করাবো। আমরা নিজস্ব পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। এ বছর রাজশাহীতে কেন্দ্র দিয়েছি, আগামীতে আমরা খুলনায় কেন্দ্র দিতে চেষ্টা করবো। ছাত্র-ছাত্রীদের কল্যাণে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মুখভাগে সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার পাশে ফটোকপি মেশিন, লন্ড্রি এবং সেলুন দোকান করার উদ্যোগ নিয়েছি, খুব শীঘ্রই তা সম্পন্ন হবে। কবি নজরুল হলের দৃষ্টিনন্দন গেইট করেছি। পর্যায়ক্রমে সবগুলো হলের গেইট করা হবে। ইংরেজি বিভাগের পিছনে একটি সিড়ি করেছি। মসজিদ ও ক্যাফেটেরিয়ায় আসার জন্য দত্ত হল থেকে আরও একটি রাস্তা করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
প্রক্টর প্রফেসর ড. মোঃ আবদুল হাকিম বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর দোকান থেকে বাকী খাওয়া বন্ধ করেছি। এখন আর কেউ বাকী খায় না, দোকানদারদেরও কোন অভিযোগ নেই। আমরা র্যাগিং মুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে সক্ষম হয়েছি, মাদক মুক্ত করেছি, গণরুম থেকে মুক্ত করেছি। গত দেড় বছরে একদিনও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়নি। এছাড়াও আমরা বাহিরের অনেকগুলো সমস্যা সমাধান করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে তোমাদের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।’
সভায় সভাপতির বক্তব্যে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. নাহিদা বেগম বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় ও প্রাণবন্ত করা এবং প্রশাসনের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে আজকের এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই সভার মাধ্যমে বিভিন্ন সংগঠন তাদের দাবি, কার্যক্রম, পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগ তুলে ধরছে, যা সংগঠনগুলোর কার্যকর ভূমিকা পালনে সহায়ক হবে।'
উল্লেখ্য, মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ছাত্র সংগঠনগুলোর কার্যক্রম, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং ক্যাম্পাসে ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা তাদের পূর্ববর্তী কার্যক্রম, সীমাবদ্ধতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং প্রশাসনের কাছে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।
