প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
আগামী ৫০ বছরের বৈশ্বিক পরিবর্তন ও সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সাজানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (বিইআই) প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রদূত এম. হুমায়ুন কবির।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ৫০৪ নম্বর কক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ গুরুত্বারোপ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকশন ল্যাব আয়োজিত ‘The Contours of Bangladesh’s Foreign Policy: Priorities, Challenges, & Strategic Autonomy’ শীর্ষক সেমিনারে মূল বক্তা ছিলেন তিনি।
বক্তব্যে হুমায়ুন কবির বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে আরও দূরদর্শী, বাস্তবভিত্তিক ও প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তুলতে হবে। প্রচলিত কূটনৈতিক চর্চার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের চিন্তাভাবনা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংখ্যার চেয়ে গুণগত মানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ প্রয়োজন।
বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে সম্পৃক্ত করার সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবাসী জনগোষ্ঠী শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, জ্ঞান, দক্ষতা ও কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের কৌশলগত সম্পদ হিসেবে কাজে লাগানোর প্রয়োজন রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আয়ারল্যান্ড ও ইহুদি জনগোষ্ঠীর উদাহরণ তুলে ধরেন।
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ-পরবর্তী অর্থনৈতিক বাস্তবতা প্রসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। উৎপাদনশীলতা, দক্ষতা এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কাঠামোর মধ্যে দেশের অবস্থান শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
ভারত ও চীনের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সাবেক এ রাষ্ট্রদূত বলেন, কোনো একক বৈশ্বিক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ভৌত নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে ডিজিটাল, জন ও জ্ঞানভিত্তিক কূটনীতির কার্যকর ব্যবহারের পরামর্শ দেন হুমায়ুন কবির।
