প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উর্দু বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামকে ডেকে নিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বুলবুল রহমানের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ ঘটনা ঘটে। বুলবুল রহমান উর্দু বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উর্দু বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তৌকির আহমেদ ডিসকলিজিয়েট হওয়ায় প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে পারছিলেন না। এ বিষয়ে বিভাগীয় সভাপতির সঙ্গে কথা বলতে যান বুলবুল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী, নির্ধারিত উপস্থিতি না থাকায় ওই শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান সভাপতি। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সভাপতিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও গালিগালাজ করার অভিযোগ ওঠে বুলবুলের বিরুদ্ধে।
বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘বুলবুল আমাকে ফোন করে দেখা করতে চায়। পরে প্যারিস রোডের মোড়ে তার সঙ্গে দেখা হয়। আমি ভেবেছিলাম, সে একাই আসবে। কিন্তু সে মোটরসাইকেলে করে আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে আসে।’
তিনি বলেন, ‘তৌকিরের উপস্থিতি ছিল ৪৯ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত উপস্থিতি না থাকলে পরীক্ষার ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া যায় না। আমি তাকে বলেছি, এটি একাডেমিক বিষয়। চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে নিয়মের বাইরে গিয়ে ফরম পূরণের সুযোগ দিতে পারি না।’
শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও গালিগালাজের অভিযোগ করে অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার কথা শুনে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। আমি ঘটনার ভিডিও ধারণের জন্য মোবাইল ফোন বের করলে তারা সেটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। দুজন মিলে আমার হাত ধরে টানাটানি করে। এ সময় আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।’
অভিযোগের বিষয়ে বুলবুল রহমান বলেন, ‘তৌকির আমার বিভাগের ছোট ভাই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় তার উপস্থিতি ছিল ৫০ থেকে ৫২ শতাংশ। সে আমাকে অনুরোধ করেছিল, যেন বিভাগীয় সভাপতির সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনার অনুরোধ করি। পরে প্যারিস রোডের মোড়ে সভাপতির সঙ্গে দেখা হয়।’
বুলবুল বলেন, ‘আমি তাঁকে বলেছিলাম, ছেলেটি অসুস্থ ছিল এবং মেডিকেল রিপোর্টও জমা দিতে গিয়েছিল। মানবিক দিক বিবেচনা করে সুযোগ দিলে তার একটি বছর বেঁচে যেত।’
শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও গালিগালাজের অভিযোগ অস্বীকার করে বুলবুল বলেন, ‘আমি তাঁকে মারতে যাইনি কিংবা হুমকিও দিইনি। সেখানে ৩০ থেকে ৪০ জনের মতো মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা পুরো ঘটনা দেখেছেন। আমি কাউকে গালিগালাজও করিনি।’
এর আগে, গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর বুলবুল রহমানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উর্দু বিভাগের দুই শিক্ষককে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে। বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করলেও নির্ধারিত সিজিপিএ না থাকায় তাঁর আবেদন বাতিল হয়েছিল। পরে বিভাগের সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা, অসদাচরণ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া একই বছরের ১১ আগস্ট সিন্ডিকেট সভা চলাকালে উপাচার্যের বাসভবনের মূল ফটকে তালা দেওয়ার অভিযোগও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এসব ঘটনার পর তাঁকে বিভাগে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং তাঁর বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় বিভাগের একাডেমিক কমিটি।
