রাশেদুজ্জামান রাশেদ,জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
বুধবার ১২, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --
ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে ভুল সন্দেহের বশে জবির 'কালীগঙ্গা' বাসে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে স্থানীয় কয়েকজন সন্ত্রাসী। এতে বাসে থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) তিন শিক্ষার্থী ও বাসের চালক মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত জবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ১৮তম ব্যাচের ছাত্রী পূর্ণিমার মাথা ফেটে গুরুতর জখম হয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগে একটি ভিন্ন বাসের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের সংঘর্ষ ও বাকবিতণ্ডা হয়। তবে হামলাকারীরা বাসের সঠিক পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত না করেই ভুল সন্দেহের বশে কালীগঙ্গা পরিবহনের বাসটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি প্রথমে বাসটিকে থামানোর জন্য সংকেত দেন। বাসটি তাৎক্ষণিকভাবে না থামায় সেটিকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোঁড়া হয়। একপর্যায়ে বাসটি বাধ্য হয়ে থামলে কয়েকজন লোক জোরপূর্বক ভেতরে উঠে চালককে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে। এই সময় বাসে অধিকাংশ নারী শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন, ফলে মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বাসে প্রচণ্ড আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ উঠেছে, হামলাকারীদের নেতৃত্ব দেন সিদ্দিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ছোট ছেলে কাওসার। তিনি একটি লোহা বা ভারী রড দিয়ে বাসের একের পর এক জানালার কাচ ভেঙে তছনছ করেন। এতে বাসের প্রায় প্রতিটি জানালার কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কাচের আঘাতে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী পূর্ণিমা, ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রিনভিসহ মোট তিনজন শিক্ষার্থী ও বাস চালক আহত হন। পূর্ণিমার মাথা ফেটে রক্তাক্ত হলে খবর পেয়ে তাঁর বাবা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে বাসের পরিচয় নিশ্চিত না করে কেন একজন শিক্ষকপুত্রের নেতৃত্বে এমন তাণ্ডব চালানো হলো, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
এদিকে সন্ত্রাসী হামলায় মারাত্মক আহত জবি শিক্ষার্থী পূর্ণিমাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. রইছ উদ্দীন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. সাবিনা শরমীন, জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম, এজিএস মাসুদ রানা ও সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানসহ জকসুর অন্যান্য প্রতিনিধিবৃন্দ।
হাসপাতালে নেতৃবৃন্দ আহত শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জকসু নেতৃবৃন্দ যৌথভাবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে অভিযুক্ত কাওসারসহ হামলাকারী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।