প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৪ এএম
মরুভূমির বাতাসেই মিলবে বিশুদ্ধ পানি
বিশ্ব যখন তীব্র পানি সংকটের দ্বারপ্রান্তে, ঠিক তখনই নতুন আশার বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছেন ২০২৫ সালের রসায়নে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী Omar Yaghi। তার উদ্ভাবিত অত্যাধুনিক যন্ত্র শুষ্ক মরুভূমির বাতাস থেকেও সরাসরি সুপেয় পানি উৎপাদন করতে সক্ষম—যা খরা ও ঘূর্ণিঝড়প্রবণ অঞ্চলের জন্য যুগান্তকারী সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম The Guardian জানিয়েছে, পরিবেশবান্ধব এই প্রযুক্তি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি পানির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অধ্যাপক ইয়াগির প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি Atoco ইতোমধ্যে এমন যন্ত্র তৈরি করেছে, যা আকারে ২০ ফুটের একটি শিপিং কন্টেইনারের সমান এবং প্রতিদিন প্রায় এক হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানি উৎপাদন করতে পারে।
এই প্রযুক্তির মূল ভিত্তি ‘রেটিকুলার কেমিস্ট্রি’—রসায়নের একটি বিশেষ শাখা, যেখানে এমন উপাদান তৈরি করা হয় যা বাতাস থেকে আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে। ইয়াগির উদ্ভাবিত বিশেষ অণু মরুভূমির মতো শুষ্ক পরিবেশ থেকেও জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে তা বিশুদ্ধ পানিতে রূপান্তর করে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যন্ত্রটি চালাতে প্রচলিত বিদ্যুৎ গ্রিডের প্রয়োজন হয় না; সাধারণ তাপশক্তিতেই এটি কার্যকর।
শৈশবে জর্ডানের এক শরণার্থী শিবিরে বেড়ে ওঠা ইয়াগি জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগহীন জীবনই তাকে এই আবিষ্কারে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, সপ্তাহে একবার পানি আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে সবাই তাড়াহুড়া করে পাত্র ভরতেন—সেই অভিজ্ঞতাই তাকে বৈশ্বিক পানি সমস্যার সমাধান খুঁজতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের লোনা পানি বিশুদ্ধ করার প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এই প্রযুক্তি অনেক বেশি টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব। কারণ এতে অতিরিক্ত লবণাক্ত বর্জ্য তৈরি হয় না, যা সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিশ্বকে ‘পানি দেউলিয়া’ হওয়ার ঝুঁকিতে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রায় ২২০ কোটি মানুষ এখনও নিরাপদ পানির বাইরে। এই প্রেক্ষাপটে ইয়াগির উদ্ভাবন ক্যারিবীয় অঞ্চলের ঝড় ও খরাপ্রবণ দ্বীপগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়ের পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকায় দ্রুত পানি সরবরাহে এটি হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
